নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১০ মার্চ ২০২৬ :

ডুয়ার্স, ১০ মার্চ ২০২৬: কাজের চাপ বাড়লেও ভাগ্য বদলায়নি উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে ন্যূনতম মজুরির (Minimum Wage) দাবি। “যেখানে রাজ্য সরকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা বাড়িয়ে ভোট চাইছে, সেখানে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দিতে কেন এই অনীহা”—এই প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নামলেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার ডুয়ার্সের তুরতুরি চা বাগানের শ্রমিকরা লেবার কোড বাতিলের দাবিতে পথ অবরোধ ও ধর্মঘটে শামিল হন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, রাজ্যে ন্যূনতম মজুরি না মেলায় বাধ্য হয়ে পুরুষ শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত চা বাগানে ২০ শতাংশ বোনাস ঘোষণা করলেও বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। তুরতুরি বাগানের শ্রমিকদের হাতে মাত্র ১০ শতাংশ বোনাস তুলে দেওয়া হয়েছে। বকেয়া বোনাসের দাবি জানালে বাগানের ম্যানেজার সাফ জানিয়ে দেন যে, তা দেওয়া সম্ভব নয়। শ্রমিকদের প্রশ্ন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ২০ শতাংশ বোনাসের ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন, সেখানে বঞ্চনার শিকার শ্রমিকদের নিয়ে কেন তিনি নীরব?
এদিন বাগানের শত শত শ্রমিক কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ‘কালো’ লেবার কোড কোনোভাবেই মানা হবে না। এই আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। সভাটি পরিচালনা করেন শ্রমিক নেতা মধু মুন্ডা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি অবিলম্বে বকেয়া বোনাস মেটানো না হয় এবং লেবার কোড প্রত্যাহার না করা হয়, তবে আগামীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে চা শ্রমিকরা।”
প্রশাসনের এই উদাসীনতা ও মালিকপক্ষের টালবাহানায় এখন উত্তপ্ত ডুয়ার্সের চা বলয়। একদিকে বাড়ছে কাজের বোঝা, অন্যদিকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে পথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ।