আলিপুরদুয়ারে সরকারি স্তরে শীঘ্রই চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক ৫ টি চা-বাগান হাসপাতাল | The 4th Column

আলিপুরদুয়ারে শীঘ্রই চালু হচ্ছে ৫টি অত্যাধুনিক সরকারি চা বাগান হাসপাতাল

বিশেষ প্রতিবেদন, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ১৪ই এপ্রিল ‘ ২০২৫ :

আলিপুরদুয়ার জেলার চা শ্রমিকদের জন্য সুখবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে জেলার পাঁচটি চা বাগানে অত্যাধুনিক সরকারি হাসপাতাল উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ঢেকলাপাড়া, ডিমডিমা, রায়মাটাং, রামঝোরা এবং নিউ ল্যান্ডস চা বাগানে এই হাসপাতালগুলির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। শ্রম দফতরের আর্থিক সহায়তা এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এতদিন ধরে চা বাগান মালিকদের তৈরি করা পুরনো ও সীমিত পরিষেবার হাসপাতালগুলির তুলনায় এই নতুন হাসপাতালগুলি শ্রমিকদের অনেক উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করবে। প্রতিটি হাসপাতাল নির্মাণে আনুমানিক ১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। হাসপাতালগুলি চালু হলে সেখানে স্থায়ীভাবে নার্স ও কম্পাউন্ডাররা তো থাকবেনই, এছাড়াও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রোগের ওষুধপত্রও বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
জেলা জুড়ে মোট ১৮টি এমন অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি হাসপাতালের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। এবার আরও পাঁচটি হাসপাতাল উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত। বাকি দশটি হাসপাতালের মধ্যে সিংহভাগের ৫০ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও, নতুন করে জেলার মাঝেরডাবরি ও সেন্ট্রাল ডুয়ার্স চা বাগানেও দ্রুত হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালগুলির সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নার্স, কম্পাউন্ডার এবং অন্যান্য কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালের জন্য একটি করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিকবড়াইক বলেন, “আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি দুই জেলাতেই দ্বিতীয় ধাপে আরও কিছু হাসপাতালের উদ্বোধন হবে। এই হাসপাতালগুলি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতোই নির্দিষ্ট পরিকাঠামো নিয়ে চলবে। এর ফলে চা বাগানের শ্রমিকরা বিভিন্ন ছোটখাটো রোগভোগের জন্য দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। সামান্য চিকিৎসার জন্যও তাঁদের আর চা বাগানের বাইরে যেতে হবে না। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার চা বাগানগুলির বাসিন্দারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।”

উল্লেখ্য, টি অ্যাক্ট অনুযায়ী চা বাগানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করার দায়িত্ব বাগান মালিকদের উপর বর্তায়। তবে অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের ৯৯ শতাংশ চা বাগানে মালিকরা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
আলিপুরদুয়ার জেলার ধুমচিপাড়া, তাসাটি, নিমতি, ভার্নোবাড়ি, ভাতখাওয়া, মহুয়া এবং হান্টাপাড়া চা বাগানগুলিতে নির্মীয়মাণ হাসপাতালগুলির কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী উদয়ন গুহ এই প্রসঙ্গে বলেন, “আপাতত পাঁচটি হাসপাতালের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলিও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।”
এই নতুন হাসপাতালগুলি চালু হওয়ার ফলে আলিপুরদুয়ার জেলার কয়েক হাজার চা শ্রমিক উন্নত ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!