২৬ হাজার চাকুরী বাতিল : হাইকোর্টের রায় বজায় রাখল সুপ্রিম কোর্ট | The 4th Column

কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট, বাতিল প্রায় ২৬ হাজার চাকরি
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, নয়াদিল্লি/কলকাতা, এপ্রিল ৩ ‘ ২০২৫ :-

২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে গেল।
গত বছর এপ্রিল মাসে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। এই নির্দেশের ফলে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি যায়। রাজ্য সরকার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং চাকরিহারাদের একাংশ এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দীর্ঘ শুনানির পর আজ সেই রায় বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত।
এ দিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দেন যে, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তিনি বলেন, “নিয়োগে এমন ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে যে যোগ্য এবং অযোগ্যদের আলাদা করে বাছাই করা সম্ভব নয়।” তবে আদালত জানিয়েছে, যাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁরা নতুন করে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, যাঁদের চাকরি বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের এত দিনের পাওয়া বেতন ফেরত দিতে হবে। একইসঙ্গে এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, যে সমস্ত চাকরিচ্যুত ব্যক্তি আগে অন্য কোনও সরকারি চাকরি করতেন এবং সেই চাকরি ছেড়ে এসএসসির চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা চাইলে তাঁদের পুরনো দপ্তরে ফিরে যেতে পারবেন। তাঁদের তিন মাসের মধ্যে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে হবে। এছাড়াও, এই মামলায় রাজ্য মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশও বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শেষ শুনানি হয়। অবশেষে আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করল দেশের শীর্ষ আদালত, যা ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য এক বড় ধাক্কা। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার এবং চাকরিহারা কর্মীরা এই রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কীভাবে নেয়।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!