নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৮ মার্চ ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিগঞ্জ: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ঠিক আগেই বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খনি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা ‘ধস’ রুখতে এবং ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক ও আবাসন প্যাকেজ ঘোষণা করলেন তিনি। শনিবার রানিগঞ্জের ভোটপ্রচার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসবেন, সেই প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে দু’টি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। এছাড়া ঘর বদলানোর সমস্ত খরচও বহন করবে রাজ্য সরকার।
জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন, ‘মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। আমরা চাই না কেউ বিপদের মধ্যে থাকুন।’ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই পুনর্বাসনের জন্য ২,০০০টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও ৪,০০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তিনি শুধু বাসিন্দাদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘নতুন করে ভাবুন। বড় ধস নামলে হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিন।’
পুনর্বাসন প্যাকেজের ঘোষণার পাশাপাশি এদিন নির্বাচনী আবহে বিজেপি-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সরব হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এক একটি বুথে ৫০০ জনের নাম থাকলে ৪০০ জনের নামই বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটা কি রসিকতা? বিজেপি সব সীমা পার করে যাচ্ছে।’ ট্রাইবুনালে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এইSitu পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আধার কার্ডও গ্রহণ করা হচ্ছে না, সবকিছুই করা হচ্ছে মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার জন্য। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই নীতিই শেষ পর্যন্ত বিজেপির জন্য ‘মৃত্যুবাণ’ হয়ে উঠবে।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেও মমতার ভাষণে ছিল ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা। তিনি মনে করিয়ে দেন, সব উৎসবই বাংলার মানুষ একসঙ্গে পালন করে। সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়কে নিয়ে চললেই সমাজ এগোয়।