বকেয়া ডিএ মেটাতে নবান্নের নতুন পোর্টাল: ৩১ মার্চের ডেডলাইন | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৬ মার্চ ২০২৬ :

কলকাতা: দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন। সর্বোচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মেনে চলতি সপ্তাহেই অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়েছে। যেখানে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র হিসেব আপলোড করছেন কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ প্রথম কিস্তি হিসেবে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তার ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, ডিএ কোনো দয়া নয়, বরং এটি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই রাজ্য সরকার এই নতুন পোর্টাল চালু করেছে। লক্ষ্য একটাই—আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ চলতি অর্থবর্ষের শেষ দিনেই যেন কর্মীদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছে যায়। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘিরে প্রশাসনিক মহলে দানা বেঁধেছে একাধিক প্রশ্ন ও সংশয়।
সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা এসওপি (SOP) না থাকা। নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, নির্দিষ্ট নির্দেশিকা ছাড়া লক্ষ লক্ষ কর্মীর তথ্য যাচাই করে নির্ভুলভাবে টাকা মেটানো প্রায় অসম্ভব। এর পাশাপাশি তথ্যের এন্ট্রি নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে শিক্ষক সংগঠনগুলো। ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’-র দাবি, পোর্টালে আপাতত কেবল সরাসরি সরকারি কর্মীরাই তথ্য দিতে পারছেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রী গত ১৫ মার্চ ঘোষণা করেছিলেন যে শিক্ষক, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই বকেয়া ডিএ পাবেন।
এই বৈষম্যের প্রতিবাদে বামপন্থী সংগঠন ‘কো-অর্ডিনেশন কমিটি’র নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী ইতিমধ্যেই অর্থসচিবকে চিঠি দিয়েছেন। কয়েক লক্ষ শিক্ষাকর্মী ও পঞ্চায়েত কর্মীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। রোপা-২০০৯ অনুযায়ী এই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটির অধীনে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত নবান্ন সবাইকে এই পোর্টালের আওতায় আনে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কয়েক লক্ষ চাকরিজীবী।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!