নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৬ মার্চ ২০২৬ :

ফুটবলের জন্মকথা: মাটির টান থেকে গ্লোবাল গ্ল্যামার
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, কিন্তু এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাসে। আজকের ঝকঝকে স্টেডিয়াম আর আধুনিক নিয়মের ফুটবল একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বিবর্তন এবং বিভিন্ন সভ্যতার অবদান।
প্রাচীন যুগের ফুটবল:
ফুটবলের আদি রূপের সন্ধান পাওয়া যায় প্রাচীন চীনে। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে ‘সুজু’ (Cuju) নামক একটি খেলা প্রচলিত ছিল, যেখানে চামড়ার বল পায়ে লাথি মেরে জালে জড়ানো হতো। একেই ফিফা ফুটবলের সবচেয়ে প্রাচীন রূপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া প্রাচীন গ্রিস ও রোমেও বল নিয়ে যুদ্ধের মহড়ার মতো এক ধরনের খেলা প্রচলিত ছিল। মধ্য আমেরিকায় মায়া সভ্যতার মানুষেরাও রাবারের বল দিয়ে এক ধরনের খেলা খেলত, যা ছিল বেশ পরিশ্রমসাধ্য।
ইংল্যান্ড ও আধুনিক ফুটবলের রূপান্তর:
আধুনিক ফুটবলের প্রকৃত জন্মভূমি ধরা হয় ইংল্যান্ডকে। মধ্যযুগে ইংল্যান্ডের গ্রামগুলোতে ‘মব ফুটবল’ (Mob Football) খেলা হতো। তখন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না, শত শত মানুষ মিলে বল নিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করত। খেলাটি এতটাই সহিংস ছিল যে, বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ রাজা এই খেলা নিষিদ্ধ করেছিলেন।
১৮৪৮ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ফুটবলের কিছু লিখিত নিয়ম তৈরি করা হয়, যা ‘কেমব্রিজ রুলস’ নামে পরিচিত। তবে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে ১৮৬৩ সালের ২৬ অক্টোবর। লন্ডনের ফ্রিম্যাসনস ট্যাভার্নে ১১টি ক্লাব ও স্কুলের প্রতিনিধিরা মিলে ‘দি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’ (FA) গঠন করেন। এখানেই ফুটবল ও রাগবি আলাদা হয়ে যায় এবং ফুটবল তার নিজস্ব পরিচিতি পায়।
বিশ্বায়ন ও ফিফা:
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফুটবল ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ১৯০৪ সালে প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত হয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘ফিফা’ (FIFA)। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে ফুটবল এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
আজকের ফুটবল মানেই মেসি-রোনালদোর জাদু, কোটি টাকার বাজার আর গ্যালারি ভর্তি উন্মাদনা। কিন্তু এই সবকিছুর মূলে রয়েছে সেই প্রাচীন সুজু আর ইংল্যান্ডের মেঠো পথের সেই আদি লড়াই।