নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৪ মার্চ ২০২৬ :

স্পোর্টস ডেস্ক : ‘ক্রিকেট মেয়েদের খেলা নয়’—সমাজের এই পুরনো বাঁকানো কথাকে ব্যাটের ছোঁয়ায় বাউন্ডারির বাইরে পাঠাচ্ছেন ভারতের তরুণীরা। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য; গত কয়েক বছরে ভারতে নারী ক্রিকেটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত এই সমীক্ষা বলছে, ২০২০ সালের তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণ মেয়ে ক্রিকেটকে আপন করে নিয়েছেন।
বিবিসি এবং কালেক্টিভ নিউজরুমের উদ্যোগে দেশের ১৪টি রাজ্যে চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২০ সালে যেখানে মাত্র ৫ শতাংশ নারী ক্রিকেট খেলতেন, বর্তমানে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণীদের মধ্যে এই উন্মাদনা সবচেয়ে বেশি। এই বয়সের তরুণীদের অংশগ্রহণের হার ৬ শতাংশ থেকে লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ১৬ শতাংশ। সমীক্ষা অনুযায়ী, কবাডিকে পিছনে ফেলে মেয়েদের পছন্দের তালিকায় এখন শীর্ষে ক্রিকেট।
রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে নারী ক্রিকেটারের হার ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধু খেলাই নয়, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৬ শতাংশ তরুণী জানিয়েছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে মাঠকেই কর্মক্ষেত্র হিসেবে দেখতে চান। এক্ষেত্রে তামিলনাড়ু ও মেঘালয়ের মতো রাজ্যগুলো এগিয়ে রয়েছে।
উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL)-এর জনপ্রিয়তাও এই বৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশ দর্শক নিয়মিত ডব্লিউপিএল দেখেন। তবে সাফল্যের পাশাপাশি কিছু বাধাও স্পষ্ট হয়েছে। প্রায় ১৩ শতাংশ নারী নিরাপত্তার অভাবকে অন্তরায় মনে করেন, আর ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন সময়ের অভাবের কথা। তাসত্ত্বেও, লিঙ্গবৈষম্যের দেওয়াল ভেঙে বর্তমানে প্রতি তিনজন পুরুষ ক্রিকেটারের বিপরীতে একজন নারী ক্রিকেটার মাঠে নামছেন, যা চার বছর আগে ছিল ১:৫। ভারতের নারী ক্রিকেটের এই জয়গান আগামী দিনে খেলার মানচিত্রকে বদলে দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।