নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১০ মার্চ ২০২৬ :

শিলিগুড়ি, ১০ মার্চ ২০২৬: শহরের ভোজনরসিকদের প্লেটে কি সঠিক মানের খাবার পৌঁছাচ্ছে? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই মঙ্গলবার ফের বড়সড় অভিযানে নামল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। শিলিগুড়ির প্রধান নগর সংলগ্ন এলাকায় এদিন দফায় দফায় ঝটিকা সফর চালান দপ্তরের আধিকারিকরা। একের পর এক রেস্তোরাঁ ও হোটেলে হঠাৎ এই তল্লাশিতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ী মহলে।
অভিযান চলাকালীন আধিকারিকরা কেবল দোকানের সামনের চাকচিক্য দেখে সন্তুষ্ট থাকেননি, বরং সরাসরি হানা দেন রান্নাঘরের অন্দরমহলে। খতিয়ে দেখা হয় রান্নাঘর এবং বাসনপত্র ধোয়ার জায়গা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল ফ্রিজে রাখা খাবারের ওপর—কাঁচা ও রান্না করা খাবার সঠিক তাপমাত্রায় এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলাদাভাবে রাখা হচ্ছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া রান্নায় ব্যবহৃত মশলা, তেল এবং অন্যান্য কাঁচামালের গুণমানও যাচাই করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক ক্ষেত্রে দোকানের ট্রেড লাইসেন্স ও খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পরীক্ষা করা হয়।
পরিদর্শন চলাকালীন প্রধান নগরের বেশ কিছু নামী ও মাঝারি দোকানে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে চরম গাফিলতি নজরে আসে। নোংরা পরিবেশে খাবার রাখা বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে সেই সমস্ত দোকানের মালিকদের কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। খাবারের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বেশ কিছু জায়গা থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছেন আধিকারিকরা, যা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
দপ্তরের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে যদি কোনো খাবারে ভেজাল বা ক্ষতিকারক উপাদানের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই সক্রিয়তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। তাঁদের মতে, নিয়মিত এই ধরনের তদারকি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস পাবে না।