ভালোবাসার চরম মূল্য! পোষা কুকুরের লালা থেকে সেপসিস, চার হাত-পা বাদ গেল মহিলার | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

ভালোবাসার চরম মূল্য! পোষা কুকুরের লালা থেকে সেপসিস, চার হাত-পা বাদ গেল মহিলার

নিজস্ব প্রতিনিধি: পোষ্য কুকুরের প্রতি ভালোবাসা যে কারো জীবনের এমন ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা ভাবলে আজও শিউরে উঠছেন চিকিৎসকরা। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের এক সাধারণ রবিবার ব্রিটিশ গৃহবধূ মনজিৎ সাঙ্ঘার জীবনে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। আদরের কুকুরের জিভ থেকে ছড়ানো সংক্রমণ বা সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের দুই হাত ও দুই পা হারাতে হলো ৫২ বছর বয়সী এই মহিলাকে।
ঘটনার সূত্রপাত: ঘটনার দিন কাজ থেকে ফিরে ক্লান্ত মনজিৎ বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তার শরীরে আগে থেকেই একটি ছোট ক্ষত ছিল। পোষ্য কুকুরটি আদর করে সেই ক্ষতে জিভ বুলিয়ে দেয়। আপাতদৃষ্টিতে এই সাধারণ ঘটনাটিই কাল হয়ে দাঁড়ায়। পরদিন সকালে স্বামী কমলজিৎ দেখেন, স্ত্রীর শরীর বরফের মতো ঠান্ডা এবং ঠোঁট ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, মনজিৎ কোমায় চলে গেছেন।
ঘাতক যখন ‘ক্যাপনোসাইটোফেগা’: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুকুরের লালায় ‘ক্যাপনোসাইটোফেগা ক্যানিমোরসাস’ (Capnocytophaga canimorsus) নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া থাকে। এটি কুকুরদের জন্য ক্ষতিকারক না হলেও মানুষের রক্তে মিশলে মারাত্মক সেপসিস তৈরি করতে পারে। ৩২ সপ্তাহ হাসপাতালে যমে-মানুষে লড়াইয়ের পর সংক্রমণ রুখতে চিকিৎসকরা মনজিতের দুই হাত, দুই পা এবং প্লীহা বাদ দিতে বাধ্য হন। আইসিইউ-তে থাকাকালীন ছয়বার তার হৃদস্পন্দন থেমে গিয়েছিল।
সেপসিসের লক্ষণ ও সতর্কতা: বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপসিস হলে শরীরে লালচে র‍্যাশ, তীব্র শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
সতর্কতা: পোষ্যকে আদর করায় বাধা নেই, তবে শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে সেখানে পোষ্যকে মুখ দিতে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। যদি ভুলবশত লালা লেগেও যায়, তবে দ্রুত সাবান ও জল দিয়ে সেই স্থান পরিষ্কার করা জরুরি। সামান্য সচেতনতাই পারে এমন বড় বিপদ রুখতে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!