নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী মুখোশ গ্রাম চড়িদার এক অনন্য লড়াইয়ের মুখ এখন কলেজ ছাত্রী নীলিমা মুড়া। আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা এবং পরিবারকে সাহায্য করার তাগিদ তাকে এনে দিয়েছে এক নতুন পরিচিতি। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে সে গ্রামের মধ্যেই খুলে ফেলেছে একটি ছোট মুখোশের দোকান। একদিকে মুখোশ তৈরি, অন্যদিকে বই-খাতা নিয়ে পড়াশোনা—এই দুইয়ের মধ্যে এক অসাধারণ ভারসাম্য তৈরি করেছে নীলিমা।
নীলিমার বাবা লক্ষ্মণ মুড়া জানান, ছয় সদস্যের পরিবারে তাঁর সামান্য আয়ে সংসার চালানোই কঠিন, মেয়ের পড়াশোনার খরচ তো দূরের কথা। কিন্তু নীলিমার হার না মানা মানসিকতাই তাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। নিজের দোকানের আয় থেকেই সে টিউশন ফি এবং কম্পিউটার ক্লাসের খরচ মেটাচ্ছে। চড়িদার ঐতিহ্যবাহী এই মুখোশ শিল্প আজ নীলিমার হাতে শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং আত্মনির্ভরতার এক প্রতীক হয়ে উঠেছে।
নীলিমার এই সংগ্রাম ও সাহস এখন গ্রামের বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তার দাবি, পড়াশোনার খরচ জোগানোর পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই সে এই দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গ্রামবাসীরা নীলিমার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তার এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, চ্যালেঞ্জকে সঙ্গী করে স্বপ্ন দেখলে পথ ঠিকই বেরিয়ে আসে। রাজ্য সরকার পুরুলিয়ার মুখোশ ও ছৌ শিল্পকে ইতিমধ্যেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এই শিল্পকে বিশ্বের আঙিনায় তুলে ধরতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে নীলিমার মতো তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার গল্প অন্যদের জন্যও পথ দেখাচ্ছে।