৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলা : ২৮শে এপ্রিল ফের শুনানি, ভাগ্য অনিশ্চিত
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, ২১ এপ্রিল ২০২৫ :-
পশ্চিমবঙ্গে ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ভবিষ্যৎ ফের অনিশ্চয়তার মুখে। ২০১৬ সালে নিযুক্ত এই শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের কলকাতা হাইকোর্টের একক বিচারকের রায় এবং পরবর্তী আইনি জটিলতা এখনও অব্যাহত। আগামী সোমবার, ২৮শে এপ্রিল বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের এক বিচারপতি ৩২,০০০ শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকার অভিযোগে তাদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা আপিল করলে ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে, “নগদের বিনিময়ে স্কুল চাকরি” কেলেঙ্কারির আবহে কলকাতা হাইকোর্টের নতুন নিয়োগের নির্দেশিকার উপর স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
এরপর কলকাতা হাইকোর্টে একটি নতুন ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয় এই মামলার শুনানির জন্য। তবে, সম্প্রতি এই বেঞ্চের একজন বিচারপতি সৌমেন সেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজেকে এই মামলা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। ফলে, বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন নতুন ডিভিশন বেঞ্চ আগামী ২৮শে এপ্রিল ফের এই জটিল মামলার শুনানি করবে।
“নগদের বিনিময়ে স্কুল চাকরি” এবং নিয়োগে অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের সূত্র ধরে এই আইনি লড়াইয়ের শুরু। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিবিআই)। এই পরিস্থিতিতে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার জেরে ২০১৬ সালে নিযুক্ত ৩২,০০০ শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখনও দোলাচলে।
আগামী সোমবারের শুনানি এই শিক্ষকদের জীবনে নতুন কোনও মোড় এনে দেয় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেহেতু মামলাটি একাধিক স্তর পেরিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে এসেছে এবং এর সঙ্গে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগও জড়িত, তাই আদালতের রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই মামলার গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করছে বহু শিক্ষকের কর্মজীবন এবং রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ।