নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

সাহেবদের মুখে মেদিনীপুরের ‘মিষ্টি খিলি’, ইউরোপ থেকে দুবাই—লক্ষ্মীর ঝাঁপি ভরছে পান চাষিদের
নিজস্ব প্রতিনিধি: এক সময় সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার কামড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিল বাংলার পান। একের পর এক দেশ বাতিল করছিল কনসাইনমেন্ট। কিন্তু সেই আঁধার কাটিয়ে মেদিনীপুরের পানের রসে এখন মজেছে খোদ ইউরোপ। লন্ডন থেকে ডেনমার্ক, জার্মানি থেকে বেলজিয়াম— সাহেবদের রসনা তৃপ্ত করছে পূর্ব মেদিনীপুরের নরম-মোলায়েম পান। সঙ্গে জুড়েছে দুবাই, কাতার, বাহরিনের মতো মরু শহর এবং সুদূর অস্ট্রেলিয়ার বাজারও।
কেন মেদিনীপুরের পানের এত কদর?
রপ্তানিকারকদের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরের পানের তুলনায় মেদিনীপুরের পান অনেক বেশি নরম ও সুস্বাদু। সাগরের পানের পাতা মোটা হওয়ায় তা বিদেশের বাজারে কদর পায় না। সাহেবদের পছন্দ ময়না, তমলুক ও নন্দকুমারের পাতলা ও নরম পান। প্রতিদিন শুধুমাত্র লন্ডনেই আড়াই হাজার কেজি পান যাচ্ছে মেদিনীপুর থেকে। এছাড়া দেশের ভেতরে মুম্বই, গুজরাত বা দক্ষিণ ভারতে পান পাঠানোর জন্য মেচেদা থেকে বিশেষ ট্রেনের বগিও বরাদ্দ করতে হয়।
রপ্তানির পরিসংখ্যান:
কেন্দ্রীয় রপ্তানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে ভারত থেকে ৬.১৮ মিলিয়ন ডলারের পান বিদেশে গিয়েছে। যার মধ্যে সিংহভাগই ছিল বাংলার অবদান (৪.১৫ মিলিয়ন ডলার)। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বাংলার পান রপ্তানির অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪৭ মিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মানে পান পাঠানো বেশ কঠিন। পচন রোধে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা যায় না, তাই বিশেষ প্যাকেজিংয়ের ওপর জোর দিতে হয়।
হজম ক্ষমতা বাড়ানো ও ওষধি গুণের কারণে বিদেশের বাজারে এই পান এখন সুপারহিট। মেদিনীপুরের এই ‘সবুজ সোনা’ এখন চাষি থেকে রপ্তানিকারক—সবার ঘরেই লক্ষ্মীর ঝাঁপি উপচে দিচ্ছে।