অনলাইন ট্রেডিংয়ের ফাঁদ: ৩৫০ টি একাউন্টে ভাগ করে হলদিয়ার ব্যবসায়ীর ৪৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ | The 4th Column

অনলাইন ট্রেডিংয়ের ফাঁদ: ৩৫০ টি একাউন্টে ভাগ করে হলদিয়ার ব্যবসায়ীর ৪৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২২সেপ্টেম্বর, ২০২৫ :-

— প্রতীকী ছবি

শেয়ার ট্রেডিংয়ে বড় লাভের লোভ দেখিয়ে হলদিয়ার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল এক আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। পুলিশের দাবি, ওই বিশাল অঙ্কের টাকা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩৫০টিরও বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভাগ করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনা ফের একবার অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহতা তুলে ধরল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ জুলাই ওই ব্যবসায়ীকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখান থেকেই প্রতারণার জাল বোনা শুরু হয়। প্রথমে একটি ভুয়ো ট্রেডিং লিঙ্কে লগ-ইন করার পর তাঁর অ্যাকাউন্টে সামান্য কিছু টাকা ঢুকতে থাকে। এরপরেই চক্রের মূল হোতা তাঁকে ‘ভিআইপি গ্রুপে’ যুক্ত হওয়ার লোভ দেখায়, যেখানে বেশি লাভের জন্য ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয়। ব্যবসায়ী সেই ফাঁদে পা দিয়ে ধাপে ধাপে ১০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে মাত্র দু’দিনে ৫ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেন।
প্রতারকরা তাঁকে আরও বেশি করে প্রলুব্ধ করতে ভুয়ো ওয়েবসাইটে দেখায় যে তাঁর নামে এক কোটিরও বেশি লাভ জমা হয়েছে। কিন্তু সেই বিপুল লাভ তুলতে হলে তাঁকে লাভের অঙ্কের ২০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ বাবদ আগেভাগে জমা দিতে হবে। এরপর ব্যবসায়ী আরও একাধিক ধাপে টাকা পাঠাতে থাকেন এবং সব মিলিয়ে মোট ৪৩ লক্ষ টাকা তুলে দেন প্রতারকদের হাতে। টাকা ফেরত না পেয়ে শেষে তিনি প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পারেন এবং সাইবার ক্রাইম পোর্টালসহ স্থানীয় হলদিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে হলদিয়া পুলিশ জানতে পারে, ব্যবসায়ীর পাঠানো টাকাগুলি মূল অ্যাকাউন্টগুলি থেকে দ্রুত ৩৫০টিরও বেশি ভিন্ন অ্যাকাউন্টে ভাগ হয়ে গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অ্যাকাউন্টগুলির একটিও পশ্চিমবঙ্গের নয়। হলদিয়া থানার আইসি রাজশ্রী দত্ত এই বিষয়ে বলেন, “বারবার সচেতন করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত লাভের আশায় প্রতারকদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন।” পুলিশ এই বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে চক্রটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!