গান্ধী আশ্রমের সংস্কার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র
নিউজডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, ৩০মার্চ ‘২০২৫ :

মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী গুজরাট সরকারের সবরমতী আশ্রমের প্রস্তাবিত সংস্কার কাজের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই প্রকল্পটি গান্ধীবাদী সরলতার নীতি ও আদর্শের পরিপন্থীভাবে তৈরি করা হয়েছে।
বিচারপতি এম.এম. সুন্দরেশ এবং রাজেশ বিন্দালের একটি বেঞ্চ আগামী ১ এপ্রিল এই বিষয়ে তুষার গান্ধীর আবেদনের শুনানি করবে। এর আগে গুজরাট হাইকোর্ট ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের আশ্রমের প্রস্তাবিত রূপান্তরের বিরুদ্ধে তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, সবরমতী আশ্রম গান্ধীবাদী নীতি, স্থিতিশীলতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
তুষার গান্ধীর দাখিল করা বিশেষ অনুমতি পিটিশনে আইনজীবী কালেশ্বরম রাজ, নিশে রাজেন শংকর এবং তুলসী কে. রাজের মাধ্যমে বলা হয়েছে যে , সংস্কার প্রকল্পটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী, যা সম্পদ পুঞ্জীভূতকরণে বাধা দেওয়ার কথা বলে।
এছাড়াও, এটি সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদেরও বিরোধী, যা জাতীয় ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্মৃতিসৌধ ও স্থানগুলির সুরক্ষা ও সংরক্ষণের উপর জোর দেয়।
পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, “বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে সবরমতী আশ্রমকে একটি থিম পার্কে রূপান্তরিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গান্ধীর শিক্ষাকে উপহাস করার শামিল।”
পিটিশনে আশ্রমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় স্মৃতি রক্ষায় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নির্মাণ কাজ স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। সেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে “সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, তার সমস্ত রূপে, মানুষের মর্যাদা ও সমতার মৌলিক নীতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত, যা বিশ্বব্যাপী দৃঢ় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক একটি সুরক্ষা ও সংরক্ষণ টিকিয়ে রাখে ।”
মিঃ গান্ধী তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে ,শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধগুলি প্রাচীন স্মৃতিসৌধ আইনের আওতায় আসে। ১৯১৭ সালে মহাত্মা গান্ধী সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, “ভারতের, সবরমতী আশ্রমের মতো সাংস্কৃতিকভাবে ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান রক্ষা ও সংরক্ষণে, এক আন্তর্জাতিক দায়িত্ব রয়েছে।”
গুজরাট হাইকোর্ট ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মামলাটি খারিজ করে দিলেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে “পাঁচ একর জমির উপর অবস্থিত বর্তমান আশ্রমের কোনও পরিবর্তন বা বিকল্পীকরণ করা হবে না।” হাইকোর্টে দাখিল করা হলফনামায় রাজ্য সরকার জানিয়েছিল যে ,প্রকল্পটি আশ্রমের ভূখণ্ড পরিবর্তন করবে না এবং গান্ধীবাদী নীতির বিরুদ্ধেও যাবে না।
হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের এই বক্তব্যও নথিভুক্ত করেছিল যে আশ্রমের জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়া মূল ভবনগুলিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছিল যে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল ক্যাফেটেরিয়া ও পার্কিং-এর মতো প্রাথমিক সুবিধা প্রদান করা।
হাইকোর্টে ২০২২ সালে রাজ্য সরকার বলেছিল, ” পিটিশনারের গান্ধী আশ্রমকে একটি বিশ্বমানের জাদুঘর এবং একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার বিষয়ে আপত্তি কেন, তা বোঝা কঠিন, যেখানে এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য হবে গান্ধীজির দর্শন, শিক্ষা এবং জীবনকর্ম বহির্বিশ্বের দরবারে পৌঁছানো এবং সর্বোত্তম উপায়ে এই আশ্রমকে সংরক্ষিত করা।”
এখন দেখার বিষয়, সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কী রায় দেয়। আগামী ১ এপ্রিলের শুনানি এই মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।