নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১ মার্চ ২০২৬ :

প্রকৃতির খুনে বাহিনী: আর্মি আন্টের কামড় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য কতটা বিপজ্জনক?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিজ্ঞান ও প্রকৃতি
আমাজন রেইনফরেস্ট থেকে শুরু করে আফ্রিকার গহীন জঙ্গল— সবখানেই এক ত্রাসের নাম ‘আর্মি আন্ট’ (Army Ant)। এরা অন্য সাধারণ পিঁপড়েদের মতো চেনা গর্তে বাস করে না, বরং লক্ষ লক্ষ সদস্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে অবিরাম এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ায়। এদের সুশৃঙ্খল আক্রমণ পদ্ধতি আর শক্তিশালী কামড় যেকোনো বড় প্রাণীর জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
কেন এরা এত ভয়ঙ্কর?
আর্মি আন্টের প্রধান অস্ত্র হলো এদের বাঁকানো এবং ধারালো ‘ম্যান্ডিবল’ বা চোয়াল। একবার কোনো শিকারকে কামড়ে ধরলে এরা সহজে ছাড়ে না। এমনকি এদের কামড় এতটাই শক্তিশালী যে, অনেক আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষ গভীর ক্ষত সেলাই করার জন্য এই পিঁপড়েকে ব্যবহার করে থাকে। এদের কামড়ে ‘ফরমিক অ্যাসিড’ থাকে, যা ত্বকের সংস্পর্শে এলে তীব্র জ্বালাপোড়া এবং চুলকানি তৈরি করে।
মানুষের ওপর প্রভাব
একজন সুস্থ-সবল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য একটি বা দশটি আর্মি আন্টের কামড় প্রাণঘাতী নয়, তবে তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। যদি কোনো মানুষ দুর্ঘটনাবশত এই বিশাল বাহিনীর মাঝখানে পড়ে যান, তবে কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার পিঁপড়ে তাকে আক্রমণ করতে পারে।
তীব্র অ্যালার্জি: কামড়ের ফলে ত্বকে বড় বড় চাকা হয়ে ফুলে যেতে পারে এবং অসহ্য ব্যথা হতে পারে।
অ্যানাফিল্যাক্টিক শক: যদি আক্রান্ত ব্যক্তির পিঁপড়ের কামড়ে অ্যালার্জি থাকে, তবে শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
মানসিক ট্রমা: লক্ষ লক্ষ পিঁপড়েকে শরীরের ওপর কিলবিল করতে দেখা যেকোনো মানুষের জন্য বড় ধরনের মানসিক আঘাত হতে পারে।
বাঁচার উপায়
আর্মি আন্টরা সাধারণত চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু তারা কম্পন এবং গন্ধের সাহায্যে শিকার শনাক্ত করে। এদের গতিবেগ খুব বেশি নয়, তাই মানুষ সহজেই এদের এলাকা থেকে সরে যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এই খুনে বাহিনী তাদের পথে আসা যেকোনো পতঙ্গ, সরীসৃপ এমনকি বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীকেও কঙ্কালে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে।