জিমে অতিরিক্ত ব্যায়ামের পর স্ট্রোক! নার্স মায়ের তৎপরতায় অলৌকিক জীবনদান নাগপুরের তরুণের | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ :

–প্রতীকী ছবি

ফিটনেসের নেশাই ডেকে আনল বিপদ: শরীরচর্চার মাঝে অজ্ঞান তরুণ, মায়ের বুদ্ধিতে রক্ষা
নাগপুর: শরীর ফিট রাখা জরুরি, কিন্তু শরীরের সীমা না জেনে অতিরিক্ত ব্যায়াম যে কী ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে রইল নাগপুরের ২৩ বছরের তরুণ ওম ভোয়ারের ঘটনা। ডেডলিফট প্র্যাকটিসের ভিডিও পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘হার মানিনি, জিতবই’। কিন্তু সেই জেদই প্রায় কেড়ে নিতে বসেছিল তাঁর প্রাণ। দীর্ঘক্ষণ ওয়ার্কআউটের পর বাড়ি ফিরেই আচমকা অজ্ঞান হয়ে পড়েন ওম। আর ঠিক তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তাঁর মা, পেশায় নার্স আরতি ভোয়ার।
১০ এপ্রিলের সেই অভিশপ্ত দিনে ওমের মা পরিস্থিতি বুঝতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি। ছেলের অচৈতন্য অবস্থা দেখে তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ ক্লান্তি বা অসুস্থতা নয়, বরং স্ট্রোকের লক্ষণ। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা প্রথম ৩-৪ ঘণ্টা জীবন বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নার্স হওয়ায় আরতি দেবী জানতেন, প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। তিনি কালক্ষেপ না করে ওমকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, অতিরিক্ত শারীরিক চাপের কারণে ওমের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকরা দ্রুত ‘মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি’ নামক অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের সেই ক্লট অপসারণ করেন। মায়ের সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসকদের দ্রুত তৎপরতায় মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ফিরে আসে। বড় ধরনের ক্ষতি, এমনকি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পান ওম।
চিকিৎসায় দ্রুত সাড়া দেয় ওমের তরুণ শরীর। অবশেষে গত ২১ এপ্রিল সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি। একে প্রায় অলৌকিক প্রত্যাবর্তন বললেও ভুল হবে না।
এই ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যায়াম হেমোরেজিক স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে, যেখানে মস্তিষ্কের রক্তনালী ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পক্ষাঘাত বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ওমের এই ঘটনা আমাদের শিখিয়ে দিল, ফিট থাকা জরুরি, কিন্তু সচেতন থাকা তার চেয়েও বেশি জরুরি। শরীরের সংকেতকে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ, কখন থামতে হবে, তা জানাটাও ফিটনেসেরই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!