৫০ বছর পর ইতিহাস: চাঁদের সীমানা জয় করে পৃথিবীতে ফিরলেন নাসার চার নভোচারী | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১২ এপ্রিল ২০২৬ :

মহাকাশ গবেষণায় নতুন ভোরের সূচনা: সফলভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে নামল আর্টেমিস ২
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ পাঁচ দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একগুচ্ছ নতুন বিশ্বরেকর্ড সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে এলেন নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের চার সাহসী নভোচারী। শনিবার ভোরে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি যখন অবতরণ করল, তখন রচিত হলো মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন মহাকাব্য। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো মিশনের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চাঁদের এত কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হলো।
রুদ্ধশ্বাস ছয় মিনিট ও সফল অবতরণ:
হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোল রুমে তখন পিনপতন নীরবতা। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ঘর্ষণের ফলে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি একটি জ্বলন্ত আগুনের গোলার রূপ নেয়। গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার। প্রত্যাশিত নিয়ম অনুযায়ী, এই সময় টানা ৬ মিনিট পৃথিবীর সঙ্গে মহাকাশযানের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। অবশেষে প্যারাসুট খুলে যখন ওরিয়ন জল ছুঁল এবং কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের শান্ত কণ্ঠস্বর ভেসে এল— “আমরা একদম ঠিক আছি”, তখন কন্ট্রোল রুমে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
রেকর্ড গড়া চার বীর:
১০ দিনের এই অভিযানে কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের সঙ্গে ছিলেন তিন মার্কিন ও এক কানাডীয় মহাকাশচারী। এই মিশনটি কেবল বৈজ্ঞানিক কারণে নয়, বরং মানবিক বৈচিত্র্যের কারণেও অনন্য। ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী হিসেবে এবং ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে চাঁদের সীমানায় পৌঁছানোর গৌরব অর্জন করেন। অন্যদিকে, জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে এই ঐতিহাসিক যাত্রার অংশীদার হন।
চাঁদের ‘ডার্ক সাইড’ ও অভাবনীয় অভিজ্ঞতা:
অভিযান চলাকালীন নভোচারীরা চাঁদের সেই রহস্যময় ‘ডার্ক সাইড’ বা অন্ধকার পিঠ স্বচক্ষে দেখেন, যা পৃথিবী থেকে কখনও দৃশ্যমান নয়। তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪,০০০ মাইল উচ্চতায় চাঁদের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ এবং চাঁদের পিঠে উল্কাপাত প্রত্যক্ষ করেন। তাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে ‘আর্থসেট’-এর মতো বিস্ময়কর ছবি, যেখানে ধূসর চাঁদের দিগন্তে নীলাভ পৃথিবীকে অস্ত যেতে দেখা যায়।
আবেগঘন মুহূর্ত ও আগামীর স্বপ্ন:
অভিযানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল যখন নভোচারীরা দুটি চন্দ্রগহ্বরের নাম কমান্ডার ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী এবং তাদের মহাকাশযানের নামে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সফলভাবে ফিরে আসার মাধ্যমে ওরিয়নের হিট শিল্ড নিয়ে তৈরি হওয়া আগের সমস্ত সংশয় দূর হয়েছে। ২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করে ক্যাপসুলটির ফিরে আসা ২০২৮ সালে চাঁদে মানুষ নামানোর ‘আর্টেমিস ৪’ মিশনের পথ প্রশস্ত করল।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আবার চাঁদে মানুষ পাঠানো এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবসায় ফিরেছি।” আগামী বছর ‘আর্টেমিস ৩’ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে ল্যান্ডার যুক্ত করার মহড়া চলবে। সব ঠিক থাকলে ২০২৮ সালেই আবার চাঁদের মাটিতে মানুষের পদচিহ্ন পড়বে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!