পুষ্টির নামে বিষম প্রতারণা! এক বালতি জলে দু’প্যাকেট দুধ মিশিয়ে শিশুদের খাওয়ালো স্কুল | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

পুষ্টির নামে বিষম প্রতারণা! এক বালতি জলে দু’প্যাকেট দুধ
মিশিয়ে শিশুদের খাওয়ালো স্কুল

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম: মিড-ডে-মিলের পুষ্টিকর খাবারের বদলে শিশুদের দেওয়া হচ্ছে ‘সাদা জল’! যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশের মাহোবা জেলার ঢিকওয়াহা গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এমনই এক লজ্জাজনক ও অমানবিক ছবি ধরা পড়ল। শিশুদের দুধ খাওয়ানোর নামে এক বালতি জলের মধ্যে নামমাত্র দুই প্যাকেট দুধ মিশিয়ে পরিবেশন করার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিক্ষা মহলে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের এক বয়স্ক রাঁধুনি, ছবি রানী একটি জলভর্তি বালতির মধ্যে মাত্র দুটি দুধের প্যাকেট কাটছেন। অবাক করা বিষয় হলো, পুরো ঘটনাটি ঘটছে স্কুলের অধ্যক্ষ মনিকা সোনির চোখের সামনে। এমনকি ভিডিওতে জনৈক এক অধ্যাপিকাকে পুরো বিষয়টি মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করতেও দেখা গেছে। অভিযোগ, ওই বালতির পাতলা সাদা জলই গ্লাসে করে শিশুদের পরিবেশন করা হয়েছে। যেখানে শিশুদের শারীরিক বিকাশের জন্য মিড-ডে-মিলে খাঁটি দুধ দেওয়ার কথা, সেখানে এমন ‘দুধ-মিশ্রিত জল’ খাওয়ানোকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁদের দাবি, শুধু খাবারের মানই নয়, ওই স্কুলের পড়াশোনার মানও তলানিতে ঠেকেছে। অধ্যক্ষ মনিকা সোনির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিয়মমাফিক স্কুল চালান না এবং স্কুল চলাকালীন প্রায়ই তাঁকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মিড-ডে-মিলের বাজেট কমিয়ে এবং শিশুদের খাবারের গুণমান নষ্ট করে সেই টাকা অধ্যক্ষ নিজের পকেটে ভরছেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মাহোবার বেসিক এডুকেশন অফিসার (বিএসএ) রাহুল মিশ্র জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অধ্যক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুদের ভবিষ্যৎ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে এই ধরণের আপস কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!