নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৩১ মার্চ ২০২৬ :

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু আমাদের সামনে এক রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরেছে—অসাবধানতা থাকলে জল যে কোনো মুহূর্তে মারণফাঁদ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সাঁতার না জানলে বা গভীর জলে নামার ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব ঘটলে নেমে আসতে পারে চরম বিপর্যয়। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন সাঁতার বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা।
বিপদে পড়লে করণীয়:
উদ্ধারকারী ও সাঁতার বিশেষজ্ঞদের মতে, জলে ডুবে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সবথেকে বড় শত্রু হলো ‘আতঙ্ক’। ভয় পেলে শরীর শক্ত হয়ে যায় এবং দ্রুত শক্তি ক্ষয় হয়। তাই প্রথম শর্ত হলো শান্ত থাকা। সাঁতার না জানলে জলের ওপর হাত-পা অযথা না ছুড়ে শরীরকে রিল্যাক্স রেখে পিঠের ওপর ভর দিয়ে ভাসার (Floating) চেষ্টা করা উচিত। এতে মুখ জলের ওপরে থাকে এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।
স্রোত ও ঢেউ মোকাবিলা:
নদী বা সমুদ্রে স্রোতের মুখে পড়লে তার সঙ্গে লড়াই না করে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ঢেউয়ের সঙ্গে শরীরকে ওঠানামা করতে দিলে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। সরাসরি তীরের দিকে না গিয়ে আড়াআড়ি বা কোণাকুণি ভাবে এগোলে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছানো সহজ হয়। এছাড়া কাছাকাছি কোনো ভাসমান বস্তু থাকলে তা আঁকড়ে ধরা উচিত।
চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ ও সিপিআর:
ফুসফুসে জল ঢুকে গেলে পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তকে জল থেকে তুলে শক্ত জায়গায় শুইয়ে দিতে হবে। শ্বাস বন্ধ থাকলে দেরি না করে কৃত্রিম শ্বাস বা সিপিআর (CPR) শুরু করতে হবে। যদি শ্বাস চলে কিন্তু কষ্ট হয়, তবে আক্রান্তকে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিতে হবে যাতে মুখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসে।
পরিশেষে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, গভীর জলে একা নামা এড়িয়ে চলুন এবং সাঁতার জানলেও সমুদ্রে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। সামান্য সচেতনতাই হতে পারে জীবনের আসল রক্ষাকবচ।