ঠাকুরের নামে ‘স্বামী’ সম্বোধন! প্রধানমন্ত্রীর ‘সাংস্কৃতিক অজ্ঞতা’ নিয়ে তোপ দাগলেন মমতা
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

কলকাতা: শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত একটি বিশেষ্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংঘাত শুরু হলো বাংলায়। শুক্রবার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর এই সম্বোধনকে ‘সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতাহীনতা’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
বিতর্কের মূলে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রামকৃষ্ণদেবের নামের আগে ‘স্বামী’ (Swami) শব্দের প্রয়োগ। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যুগাবতার শ্রী রামকৃষ্ণ আপামর ভক্তের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবেই পরিচিত। প্রথা অনুযায়ী, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসী শিষ্যদের নামের আগে ‘স্বামী’ উপাধি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু স্বয়ং আচার্য বা মাস্টারকে কখনোই এই বিশেষণে ভূষিত করার চল নেই। রামকৃষ্ণ ভাবধারার ‘পবিত্র ত্রয়ী’র ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই পরম্পরায় ঠাকুর হলেন শ্রী রামকৃষ্ণ, মা হলেন সারদা দেবী এবং স্বামীজি হলেন স্বামী বিবেকানন্দ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলার মনীষীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণা না রেখেই বারবার নতুন নতুন বিশেষণ বা উপসর্গ যোগ করে তাঁদের অপমান করছেন। তাঁর মতে, যারা আধুনিক ভারতের রূপকার, তাঁদের নামের ভুল প্রয়োগ বাংলার কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। রামকৃষ্ণ অর্ডারের দীর্ঘদিনের পরম্পরাকে উপেক্ষা করে কেন এমন ‘নজিরবিহীন ও অনুচিত’ শব্দ ব্যবহার করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার বাংলার মনীষীদের প্রতি বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।