নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২১ এপ্রিল ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর। ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং এলাকায় কোনো প্রকার উত্তেজনা বা ‘সোর্স জ্যামিং’ রুখতে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর একগুচ্ছ কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ঠিক দুই দিন আগে (Polling Day – 2) থেকেই এই নিয়মগুলি কার্যকর হবে। প্রথমত, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনো প্রকার মোটরবাইক র্যালি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ভোটের আগের দুই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন (যেমন চিকিৎসা বা পারিবারিক অনুষ্ঠান) ছাড়া মোটরবাইক চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এমনকি দিনের বেলাতেও নিয়ম রাখা হয়েছে কড়া। পোলিং ডে-এর দুদিন আগে থেকে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকে ‘পিলিয়ন রাইডিং’ বা পেছনে যাত্রী বসানো যাবে না। তবে স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াত এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে এতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন অবশ্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য পিলিয়ন রাইডিং-এ কিছুটা ছাড় থাকছে।
পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই নিয়মগুলি কঠোরভাবে পালন করা হয়। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, মূলত ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে এবং কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতেই এই সাহসী সিদ্ধান্ত। প্রতিটি জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশ সুপারদের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার: লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক দু’দিন আগে নির্বাচন কমিশনের এক নজিরবিহীন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত আলিপুরদুয়ার। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত বাইক বা স্কুটিতে চালক ছাড়া অন্য কেউ বসতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে পিলিয়ন রাইডার নিতে হলে স্থানীয় থানা থেকে সংগ্রহ করতে হবে বিশেষ ছাড়পত্র।
যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত বাইকের ওপর এমন কড়াকড়িতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাসিন্দাদের একাংশ একে ‘তুঘলকি শাসন’ ও ‘লকডাউনের’ সাথে তুলনা করেছেন। এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলেও বিভাজন স্পষ্ট। বিজেপি অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে একে সমর্থন করলেও, তৃণমূল একে সাধারণ মানুষের ওপর অহেতুক হয়রানি বলে কটাক্ষ করেছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই নির্দেশিকায় জেলায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।