নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: প্রাথমিক উপসর্গ চিনতে পারলেই এড়ানো সম্ভব বড় বিপদ | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: প্রাথমিক উপসর্গ চিনতে পারলেই এড়ানো সম্ভব বড় বিপদ
নিজস্ব সংবাদদাতা: মানবদেহের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো কিডনি। শরীরের রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করা, বর্জ্য অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় খনিজ ও তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে এই অঙ্গটি। কিন্তু বর্তমান সময়ের বিশৃঙ্খল জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
গুজরাটের ‘ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন’-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ রোগীই তাদের কিডনির সমস্যা সম্পর্কে তখন জানতে পারেন, যখন রোগটি একেবারে শেষ পর্যায়ে বা গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যায়। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক জোসেফ ভাসালোট্টি জানিয়েছেন, কিডনি বিকল হওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় অনেকে প্রাথমিক উপসর্গগুলো গুরুত্ব দেন না। সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়ার ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনেক জটিল হয়ে পড়ে।
কোন লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না?
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কিডনির সমস্যার অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। রক্তে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীর অবসন্ন বোধ করে। এছাড়া ঘুমের ব্যাঘাত বা রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া কিডনি কার্যকারিতা হ্রাসের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় হাত-পা ফুলে যাওয়া বা ত্বকে চুলকানিও এই রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি কারো শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা ঘুমের অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে দ্রুত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করানো জরুরি। সময়মতো রোগ নির্ণয় করা গেলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনির ক্ষতির গতি রোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সুস্থ থাকতে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান, নুন খাওয়ার পরিমাণ কমানো এবং শরীরচর্চার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!