কেরলে চিকুনগুনিয়ার থাবা: এর্নাকুলামে হাই অ্যালার্ট, সংক্রমণ রুখতে কড়া জরিমানা ও সর্তকতা জারি | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ :

— প্রতীকী ছবি

কেরলে নতুন করে চিকুনগুনিয়ার আতঙ্ক, সতর্ক স্বাস্থ্য দপ্তর
তিরুবনন্তপুরম: করোনা বা নিপা ভাইরাসের পর এবার কেরলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া। রাজ্যের এর্নাকুলাম জেলায় হঠাৎ করেই চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে কুন্নুকারা ও চেঙ্গামানাদ পঞ্চায়েত এলাকাকে সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল বা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলাটিতে এখন পর্যন্ত ৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে এবং আরও ১৯টি ক্ষেত্রে সংক্রমণের জোরালো সন্দেহ রয়েছে। এর মধ্যে কুন্নুকারা এলাকায় পরিস্থিতির গভীরতা বেশি। সেখানে ২৪টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ৬টি নিশ্চিত এবং ১৮টি সন্দেহজনক কেস মিলেছে। অন্যদিকে, চেঙ্গামানাদে ৪টি কেসের মধ্যে ৩টি নিশ্চিত।
উপসর্গ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ:
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ তীব্র জ্বর, হাতের কনুই, হাঁটু বা গোড়ালির মতো সন্ধিস্থলে প্রচণ্ড ব্যথা, পেশিতে টান, মাথাব্যথা এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো ব্যথানাশক (Painkiller) ওষুধ খাওয়া চলবে না, কারণ এতে শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
সংক্রমণ রুখতে কেরল সরকার জনস্বাস্থ্য আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে। কোনো বাড়ি বা নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানে জমা জল বা মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেলে মালিককে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সপ্তাহে একদিন ‘ড্রাই ডে’ পালন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ফুলের টব, টায়ার বা ট্রের জমা জল পরিষ্কার করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দিনের বেলাতেও মশারির নিচে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সংক্রমণ আর ছড়িয়ে না পড়ে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও জলপানের পাশাপাশি সচেতনতাই এখন এই রোগের প্রধান প্রতিষেধক।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!