আলিপুরদুয়ারে অবৈধ পাথর তুলে পালাতে গিয়ে ট্র্যাক্টর উল্টে চালকের মৃত্যু, বন দফতরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ০৯ এপ্রিল:

আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের মধু চা বাগান সংলগ্ন বাসরা নদীতে অবৈধভাবে বালি ও পাথর তোলার সময় ট্র্যাক্টর উল্টে এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত চালকের নাম সঞ্জয় শা (৪০) বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনাটি আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ঘটে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নিহত ট্র্যাক্টর চালক বিনা অনুমতিতে নদী থেকে বালি-পাথর তুলছিলেন। সেই সময় বনকর্মীদের একটি দল হাতিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বেরিয়েছিল। বনকর্মীদের দেখতে পেয়েই চালক দ্রুত গতিতে ট্র্যাক্টর চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে যায় এবং চালক তার নিচে চাপা পড়েন।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা অপূর্ব সেন এই বিষয়ে বলেন, “বন দফতরের অনুমতি ছাড়া বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলি থেকে বালি-পাথর উত্তোলন করা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। আমাদের বনকর্মীরা এদিন হাতিদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। তাঁদের দেখতে পেয়েই ওই ট্র্যাক্টর চালক ভয় পেয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনে। এই দুর্ঘটনার জন্য বনকর্মীরা কোনোভাবেই দায়ী নন।”
যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ট্র্যাক্টর দুর্ঘটনায় নিহত চালকের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে, বন দফতরের এই বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অবৈধ খননকার্য বন্ধে বন দফতরের ভূমিকা নিয়েও অনেকে সমালোচনা করছেন।
এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিভাবে এই অবৈধ খননকার্য চলছিল এবং বন দফতরের নজর এড়িয়ে দিনের পর দিন কারা এই কাজ করছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ট্র্যাক্টর চালকের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হলে, সেই বিষয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ফের একবার বনাঞ্চলে অবৈধ খননকার্য ও তার ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করল। বন দফতর ভবিষ্যতে এই ধরনের কার্যকলাপ রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা যায়।