নিউজডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, জলপাইগুড়ি, ১৯ নভেম্বর ২০২৫:

মাল ব্লকের নিউগ্লাঙ্গো চা-বাগানে আজ নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার । আইসিডিএস কর্মী তথা বুথ লেভেল অফিসার শান্তিমনি এক্কা (৪৮) আর ফিরবেন না। বুধবার ভোরে নিজের বাড়ির উঠোনে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখে চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন স্বামী দেবল এক্কা ও দুই সন্তান।
যে মহিলা সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ঘরে-ঘরে ঘুরে SIR ফর্ম পূরণ করতেন, বাড়ি ফিরেও শান্তি পেতেন না। দরজায় ভিড় জমতো ফর্মের জন্য। চোখের নিচে কালি, গলায় অবিরাম ক্লান্তি। তিনি জয়েন্ট বিডিও-কে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, “আমি আর পারছি না, ইস্তফা দিচ্ছি।” কিন্তু সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
“আমার বউকে মেরে ফেলল এই কাজের চাপ,” কাঁপা গলায় জানিয়েছেন স্বামী দেবল। “ও যদি একদিনও বিশ্রাম পেত”…স্খলিত স্বর ডুকরে ওঠে শূন্য ঘরে ।
পরিবারের অভিযোগ, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের নিরন্তর চাপ, রাতদিন কাজ, ঊর্ধ্বতনদের ধমক—সব মিলিয়ে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। গত কয়েক মাসে রাজ্যে এ নবম BLO-র এভাবে প্রাণহানি। পরিবারের দাবি, তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গত কয়েক মাসে রাজ্যে নবম BLO-র এভাবে প্রাণ যাওয়া। চা-বাগানের শ্রমিক-ঘরে আজ শুধু কান্না আর প্রশ্ন— কত প্রাণের বিনিময়ে এই সমীক্ষা? মাল থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু একটি মায়ের হাসি চিরকালের জন্য নিভে গেছে। শান্তিমনি এখন শুধু স্মৃতি আর অভিযোগের কাগজে একটি নাম।