নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২ মার্চ ২০২৬ :

ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের তুরুপের তাস ৭৪ দিনের তেল মজুত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধমেঘের ছায়া সরাসরি আছড়ে পড়ছে বিশ্ব তেলের বাজারে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভাণ্ডার ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান চাপের ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিসংখ্যান কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
ভারতের মজুত ভাণ্ডার ও কৌশল:
ভারতের মোট তেলের চাহিদার মাত্র ১৫-১৮ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়, বাকিটা আসে বিদেশ থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত গড়ে তুলেছে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (SRP)। বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম এবং কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরু ও পাদুরের ভূগর্ভস্থ ‘রক ক্যাভার্নে’ প্রায় ৯.৫ দিনের তেল মজুত রয়েছে। তবে শুধু SRP নয়, অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর (IOCL, BPCL, HPCL) মজুত এবং সমুদ্রের বিশেষ ট্যাঙ্কারে রাখা ‘ফ্লোটিং রিজার্ভ’ মিলিয়ে ভারতের হাতে বর্তমানে প্রায় ৭৪ দিনের সমতুল্য তেল মজুত আছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
সরকার এই মজুত ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে ৯০ দিনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। ওডিশা ও কর্নাটকে নতুন প্রকল্পের কাজ চলছে এবং রাজস্থানে লবণের খনি বা ‘সল্ট ক্যাভার্ন’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ভারতের এই বহুমুখী কৌশল কেবল যুদ্ধের দামামা নয়, বরং যেকোনো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতেও ঢাল হিসেবে কাজ করবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট বাড়লে সাময়িক দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও, জ্বালানির অভাবে দেশ স্তব্ধ হওয়ার ভয় আপাতত নেই।