ঝিনুক মাশরুমে ক্যানসার জয়ের চাবিকাঠি: তিন বাঙালি বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কারে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৩১ মার্চ ২০২৬ :

মারণ রোগ ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন তিন বাঙালি বিজ্ঞানী। অধ্যাপক ড. স্বপনকুমার ঘোষ এবং তাঁর সহযোগী গবেষক ডা. কৌশিক পাণ্ডে ও মধুপর্ণা ঘোষের গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—আমাদের অতি পরিচিত ভোজ্য ঝিনুক মাশরুমেই লুকিয়ে আছে ক্যানসার ধ্বংসের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’। বিশ্বখ্যাত ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টিনারি কলেজের ক্যানসার গবেষণা ইউনিটের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে ঝিনুক মাশরুমের বিশেষ একটি ফ্র্যাকশন, যার নাম দেওয়া হয়েছে এফ১৩ (F13)। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই যৌগটি জরায়ু, ফুসফুস এবং স্তন ক্যানসারের বিপজ্জনক কোষগুলিকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্মূল করতে সক্ষম।
কাজের পদ্ধতি:
গবেষণায় দেখা গেছে, এফ১৩ যৌগটি শরীরের ‘গার্ডিয়ান অফ জিনোম’ বা পি৫৩ (P53) জিনকে সক্রিয় করে তোলে। সাধারণত ক্যানসার আক্রান্ত কোষে এই রক্ষক জিনটি নিষ্ক্রিয় থাকে। এফ১৩ একদিকে যেমন টিউমার প্রতিরোধকারী জিনকে জাগিয়ে তোলে, অন্যদিকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিসিএল২ (BCL2) জিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। অ্যাপোপটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে।
কেন এটি বৈপ্লবিক?
ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদারের মতে, এই আবিষ্কার একটি ‘গেম-চেঞ্জার’ হতে পারে। ঝিনুক মাশরুমের মিথানলিক এক্সট্র্যাক্টে কুমারিক অ্যাসিড ও কোয়ারসেটিনের মতো ছয়টি সক্রিয় উপাদান রয়েছে। ড. স্বপনকুমার ঘোষের দাবি, এই মাশরুম রান্না করার পরেও এর ক্যানসার-বিরোধী গুণাগুণ নষ্ট হয় না। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, সুস্থ মানুষ নিয়মিত এটি খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে এবং আক্রান্তরা প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় ৫০ গ্রাম করে খেলে দ্রুত উপশম পেতে পারেন।
কয়লা ও কুড়কুড়ে মাশরুমের পর ঝিনুক মাশরুমের এই সাফল্য ক্যানসার চিকিৎসায় এক প্রাকৃতিক ও সাশ্রয়ী সমাধানের পথ দেখাচ্ছে। মানবদেহে এর সফল প্রয়োগ ঘটলে আগামীর চিকিৎসাপদ্ধতি আমূল বদলে যেতে পারে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!