হোয়াইট হাউসে রোবট ‘ফিগার ৩’-এর বাংলা সম্ভাষণ: এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বকে চমকে দিলেন মেলানিয়া |The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৬ মার্চ ২০২৬ :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার রচিত হলো এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নয়, বরং মঞ্চে দাঁড়িয়ে আগত বিশ্বনেতাদের পত্নীদের বাংলায় ‘স্বাগতম’ জানিয়ে চমকে দিল এক হিউম্যানয়েড রোবট। ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ শীর্ষক গ্লোবাল সামিটে ‘ফিগার ৩’ (Figure 3) নামক এই রোবটটিই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে ৪৫টি দেশের ফার্স্ট লেডিরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ফ্রান্সের ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ এবং ইজরায়েলের সারা নেতানিয়াহুর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। রোবোটিক্স সংস্থা ‘ফিগার’-এর তৈরি এই রোবটটি ইংরেজি, স্প্যানিশ এবং ফরাসি সহ মোট ১১টি ভাষায় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায়, যার মধ্যে বাংলার অন্তর্ভুক্তি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মেলানিয়া ট্রাম্প এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটিকে ‘হোয়াইট হাউসে প্রথম আমেরিকার তৈরি মানবাকৃতি অতিথি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রযুক্তিগতভাবে ‘ফিগার ৩’ একটি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত বা স্বয়ংক্রিয় (Autonomous) সহায়ক যন্ত্র। এর বাহ্যিক অবয়বে রয়েছে উন্নত মেশ ফ্যাব্রিক এবং হাতে বসানো হয়েছে উচ্চমানের ক্যামেরা ও স্পর্শ-সংবেদনশীল সেন্সর। নির্মাতা সংস্থার দাবি, এটি কেবল কথা বলা নয়, বরং গৃহস্থালির কাজ যেমন—বাসন মাজা, কাপড় কাচা, খেলনা গুছানো এবং কাপড় ভাঁজ করার মতো জটিল কাজগুলো নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম।
সম্মেলনে মেলানিয়া ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে ব্যক্তিগত শিক্ষা এবং হিউম্যানয়েড টিউটরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী প্রজন্মের অর্থনীতি ও শিক্ষা এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠবে। এআই এখন আর কেবল স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব জগতে মানুষের সহকর্মী হিসেবে কাজ করবে—এমনটাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল সুর। এই সামিটের মূল লক্ষ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত করা।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!