গৃহযুদ্ধে রক্তাক্ত সুদান: হাসপাতালে ড্রোন হামলায় মৃত্যু মিছিল

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২২ মার্চ ২০২৬: উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ আরও এক ভয়াবহ ও নৃশংস রূপ ধারণ করেছে। গত শুক্রবার রাতে পূর্ব দারফুর রাজ্যের রাজধানী আল-দায়েনের ‘আল-দায়েন টিচিং হাসপাতালে’ একটি ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, এই হামলায় অন্তত ৬৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১৩ জনই নিষ্পাপ শিশু।
হামলার ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়; এই ঘটনায় আরও ৮৯ জন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে সাধারণ রোগী ছাড়াও হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক এবং নার্সরা রয়েছেন। সুদানের মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ছিল সুদানি সেনাবাহিনীর চালানো একটি ড্রোন হামলা, যা সরাসরি জনবহুল হাসপাতালটিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।
হামলার ফলে আল-দায়েন টিচিং হাসপাতালের প্যাডিয়াট্রিক (শিশু বিভাগ), মেটারনিটি (মাতৃ বিভাগ) এবং এমার্জেন্সি (জরুরি বিভাগ) পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে হাসপাতালটি বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়েছে এবং শহরের সাধারণ মানুষ জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটি প্রধান হাসপাতালের এই ক্ষতি ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত প্রায় তিন বছর ধরে চলা সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (RSF) এই যুদ্ধে স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মোট ২১৩টি হামলায় ২,০৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এই নৃশংসতা বন্ধের দাবি জানিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা সুদানের সাধারণ মানুষের জীবনকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।