নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ :
আইপিএলে বেনজির কাণ্ড: সিএসকে-র বিরুদ্ধে ১৩ জনকে মাঠে নামাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স
মুম্বই: আইপিএলের ‘এল ক্লাসিকো’ মানেই যেখানে মাঠের লড়াইয়ে পারদ চড়ে, সেখানে এবার মাঠের বাইরের নিয়মের লড়াইয়ে উত্তাল ক্রিকেট মহল। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ১৩ জন ক্রিকেটারকে ব্যবহার করে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল হার্দিক পাণ্ডিয়ার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। যদিও নিয়মের ফাঁকফোকর ব্যবহার করেও শেষ রক্ষা হয়নি; ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে মুম্বইকে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই ম্যাচে? মুম্বই ইন্ডিয়ান্স একদিকে যেমন ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে মহম্মদ গজনফরের বদলে দানিশ মালেওয়ারকে নামায়, অন্যদিকে মিচেল স্যান্টনারের চোটকে কেন্দ্র করে ‘কনকাশন সাব’ নিয়মটিরও প্রয়োগ করে। ফিল্ডিং করার সময় একটি ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট পান স্যান্টনার। মুম্বইয়ের দাবি অনুযায়ী, স্যান্টনারের মাথায় আঘাত লেগেছিল এবং তিনি অস্বস্তি বোধ করছিলেন। সেই যুক্তিতে শার্দূল ঠাকুরকে কনকাশন সাবস্টিটিউট হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়। ফলে একই ম্যাচে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার ও কনকাশন সাব—দুই মিলিয়ে মোট ১৩ জন ক্রিকেটার মুম্বইয়ের হয়ে কোনো না কোনোভাবে মাঠে অবদান রাখেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো স্যান্টনারের চোটের ধরণ। অনেক বিশেষজ্ঞ ও সূত্রের দাবি, কিউয়ি ক্রিকেটারের আঘাত মাথায় নয়, বরং কাঁধে লেগেছিল। কাঁধের চোটের ক্ষেত্রে কীভাবে কনকাশন সাবের অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে আম্পায়ারদের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। বিরোধীদের দাবি, মুম্বই ‘ফেয়ার প্লে’ নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। তবে মুম্বই কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছেন, স্যান্টনারের মাথা ঘুরছিল এবং গলার দিকেও চোট ছিল, তাই ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শেই বদলি নামানো হয়।
আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে কনকাশন সাব ব্যবহারের সুযোগ থাকে। কিন্তু এই ম্যাচে ১৩ জনের উপস্থিতি আইপিএলের ইতিহাসে এক বেনজির ঘটনা হয়ে রইল। সাত ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত টেবিলের আট নম্বরে ধুঁকছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।