নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৬ মার্চ ২০২৬ :

পৃথিবীর প্রাণের উৎস কোথায়? এই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মহাকাশবিজ্ঞানীরা এবার এক বৈপ্লবিক সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন। জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘জাক্সা’ (JAXA)-র পাঠানো মহাকাশযান ‘হায়াবুসা-২’ দ্বারা সংগৃহীত রিউগু গ্রহাণুর মাটির নমুনায় ডিএনএ (DNA) এবং আরএনএ (RNA) তৈরির সমস্ত প্রয়োজনীয় যৌগিক উপাদানের সন্ধান মিলেছে। এই আবিষ্কার পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
রিউগু একটি পৃথিবী-নিকটবর্তী গ্রহাণু, যা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। ২০১৪ সালে JAXA ‘হায়াবুসা-২’ মহাকাশযানটি রিউগুর উদ্দেশ্যে পাঠায়। দীর্ঘ ছ’বছরের অভিযান শেষে ২০২০ সালে এটি পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং গ্রহাণুটি থেকে খুঁড়ে আনা প্রায় ৫.৪ গ্রাম মাটি সঙ্গে নিয়ে আসে। গত কয়েক বছর ধরে এই মাটির নমুনা নিয়ে নিরলস গবেষণা চলছে। ২০২৩ সালে এক গবেষণায় এই মাটিতে ইউরাসিলের সন্ধান মিলেছিল, যা আরএনএ-র একটি প্রধান উপাদান। এবার জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ ইয়াসুহিরো ওবা এবং তাঁর সহকর্মীদের নতুন গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, রিউগুর মাটিতে ডিএনএ এবং আরএনএ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান যৌগিক উপাদান—অ্যাডোনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থায়ামিন এবং ইউরাসিল—সবগুলিই বিদ্যমান। এই গবেষণাটি গত ১৬ মার্চ বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ দিন ধরে অনুমান করে আসছেন যে, পৃথিবীতে প্রাণের আদি উপাদানগুলি সম্ভবত মহাবিশ্বের অন্য কোনও প্রান্ত থেকে গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এসেছিল। রিউগুর এই আবিষ্কার সেই ‘প্যানস্পার্মিয়া’ তত্ত্বকেই আরও জোরালো করল। তবে গবেষকদলের সদস্য তোশিকি কোগা স্পষ্ট করেছেন যে, এর মানে এই নয় যে রিউগুতে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। এটি শুধুমাত্র প্রমাণ করে যে প্রাণের সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় ‘বিল্ডিং ব্লক’ বা মৌলিক উপাদানগুলি আমাদের সৌরজগতের অন্য প্রান্তেও ছড়িয়ে রয়েছে। এর আগে নাসার ‘বেন্নু’ গ্রহাণু এবং কিছু উল্কাপিণ্ডেও এমন উপাদানের সন্ধান মিলেছিল। কিন্তু রিউগুর এই বিস্তারিত আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের ধারণাকে এক পোক্ত ভিত্তি প্রদান করল।