ক্রোয়েশিয়ার মঞ্চে কুংফু ও নৃত্যের ঝিলিক: হিউম্যানয়েড রোবট ‘টঙ্কা’র আত্মপ্রকাশ | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

ক্রোয়েশিয়ার মঞ্চে কুংফু ও নৃত্যের ঝিলিক: হিউম্যানয়েড রোবট ‘টঙ্কা’র আত্মপ্রকাশ

জাগরেব, ক্রোয়েশিয়া: আধুনিক রোবটিক্স বিজ্ঞানের এক নতুন বিস্ময় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল হিউম্যানয়েড রোবট ‘টঙ্কা’ (Tonka)। গত বুধবার ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবের স্বনামধন্য ‘রুজার বোস্কোভিচ ইনস্টিটিউট’-এ আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রোবটটিকে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আনা হয়। এটি কেবল সাধারণ কোনো যন্ত্র নয়, বরং মানুষের মতো সাবলীলভাবে কুংফু প্রদর্শন এবং ছন্দময় নাচে পারদর্শী এক অনন্য উদ্ভাবন।
নামকরণ ও সাংস্কৃতিক সংযোগ:
রোবটটির নাম ‘টঙ্কা’ রাখা হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় নারী নাম অনুসারে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, এই নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় ক্রোয়েশীয় সংস্কৃতির একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা।
কারিগরি দক্ষতা ও বিবর্তন:
টঙ্কা মূলত চীনের বিখ্যাত ‘ইউনিট্রি রোবটিক্স’ (Unitree Robotics) দ্বারা উদ্ভাবিত Unitree G1 প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে এর আসল বিশেষত্ব লুকিয়ে আছে ক্রোয়েশীয় কোম্পানি ‘ভান্ড্রি রোবটিক্স’ (Vandri Robotics) এবং তাদের স্লোভেনীয় অংশীদারদের করা বিশেষ কিছু আপগ্রেডে। এই যৌথ প্রচেষ্টায় রোবটটিতে যুক্ত করা হয়েছে:
উন্নত মোটর কন্ট্রোল: যা রোবটটিকে অত্যন্ত কঠিন কুংফু মুভমেন্ট এবং সূক্ষ্ম নৃত্যশৈলী প্রদর্শনে সক্ষম করে তুলেছে।
কাস্টমাইজড ভয়েস সিস্টেম: এটি মানুষের সঙ্গে আরও উন্নতভাবে কথা বলতে এবং ভাব বিনিময় করতে পারে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা:
সম্মেলনে টঙ্কার প্রদর্শন ছিল অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এর শরীরের নমনীয়তা এবং ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হিউম্যানয়েড রোবট ভবিষ্যতে উদ্ধার অভিযান, ব্যক্তিগত সহায়ক কিংবা বিনোদন শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে। টঙ্কার এই সফল আত্মপ্রকাশ ক্রোয়েশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর জন্য রোবটিক্স গবেষণায় এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!