নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৪ মার্চ ২০২৬ :

বিশ্বের জ্বালানি সংকটে রাশিয়ার পৌষ মাস: প্রতিদিন আয় বাড়ছে ১৫০ মিলিয়ন ডলার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতার মাঝে বিশ্ব তেলের বাজারে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরান কর্তৃক হরমোজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পর, যে রাশিয়ার লক্ষ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কয়েক দিন আগেও ক্রেতার অভাবে মাঝসমুদ্রে পড়ে ছিল, তারাই এখন আকস্মিক মুনাফার মুখ দেখছে।
গত কয়েক দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি সংকীর্ণ করে ফেলায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমোজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অপরিশোধিত তেলের চাহিদা ও দাম—উভয়ই আকাশচুম্বী হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের ফলে রাশিয়ার তেল বিক্রয় থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হচ্ছে। যুদ্ধ বা সরাসরি কোনো সংঘাতে না জড়িয়েও মস্কো বর্তমানে এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা রাশিয়ার অর্থনীতি এই আকস্মিক ‘উইন্ডফল প্রফিট’ বা অপ্রত্যাশিত মুনাফার ফলে বড় ধরনের স্বস্তি পেতে চলেছে।
যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং সাধারণ মানুষ ও বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেখানে রাশিয়ার এই বিশাল অঙ্কের আয় প্রমাণ করে যে ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সবসময় সবাই পরাজিত হয় না। কোনো এক পক্ষের বিপর্যয় অন্য পক্ষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে হরমোজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটানোর কোনো লক্ষণ না থাকায় রাশিয়ার এই বাড়তি আয়ের ধারা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।