ইরানের বিরুদ্ধে এক মাসেই ৮৫০ টোমাহক ব্যবহার আমেরিকার! মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কি ঘাটতি? The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৮ মার্চ ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি, ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আমেরিকার ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনা মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যেই তাদের অন্যতম ঘাতক ‘টোমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে থাকা মোট ৪০০০ টোমাহকের মধ্যে প্রায় ৮৫০টি ইতিমধ্যেই প্রয়োগ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হার নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একাংশের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যে হারে টোমাহক ব্যবহার হয়েছে, তা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। সংঘাত অবিলম্বে না থামলে অদূর ভবিষ্যতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ‘ঘাটতি’ দেখা দিতে পারে। কারণ, একটি টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। অথচ, গত বছরের মার্কিন বাজেটে মাত্র ৫৭টি নতুন টোমাহক তৈরির কথা বলা হয়েছিল। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা বছরে গড়ে ৯০টি টোমাহক কেনে, কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে এক মাসেই তার প্রায় নয় গুণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পেন্টাগনের মুখপাত্র সন পার্নেল এই ধরনের প্রতিবেদনকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাকে ‘দুর্বল’ দেখানোর চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও দাবি করেছেন যে, আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারে কোনও ঘাটতি নেই।
কতটা ঘাতক এই টোমাহক?
টোমাহক হলো মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে ঘাতক ও নির্ভুল নিশানার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় আমেরিকা প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার করেছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ১৬০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে নিশানা করতে পারে। উন্নত সংস্করণগুলো ২৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম। ঘণ্টায় ৮৮০ কিমি বেগে উড়ে গিয়ে ৪৫৩ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে শত্রুশিবিরে বিধ্বংসী হামলা চালাতে পারে এটি। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি রণতরী এবং ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা হয়, ফলে শত্রুপক্ষের সীমানায় না ঢুকেই দূর থেকে হামলা চালানো সম্ভব হয়। প্রতিটি টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির খরচ প্রায় ৩৬ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা)।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!