ইরানে সর্বাত্মক মার্কিন নৌ-অবরোধ: হরমুজ প্রণালীতে ল্যান্ডমাইন আতঙ্ক এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ :

ওয়াশিংটন ও তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ইরানের সমুদ্রপথে সমস্ত ধরনের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ যাতায়াত করতে পারেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, এই কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ ইরানকে নতজানু করতে বাধ্য করবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতাও সমান্তরালে চলছে। আগামী সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন, যা নিয়ে আশাবাদী রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এই অবরোধের পেছনে মার্কিন সামরিক শক্তির পাশাপাশি ইরানের ‘ল্যান্ডমাইন’ কৌশলকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান স্বীকার করেছে যে, হরমুজ প্রণালীর তলদেশে বিপুল পরিমাণ ল্যান্ডমাইন পাতা রয়েছে। তেহরানের সাফ কথা, যুদ্ধ পুরোপুরি না থামা পর্যন্ত এই মাইন সরানো হবে না। ফলে নিরাপত্তার খাতিরেও অনেক দেশ এই রুট এড়িয়ে চলছে।
অ্যাডমিরাল ব্র্যান্ড কুপার জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতির ৯০ শতাংশ সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং কয়েকশো চৌকস কমান্ডো মোতায়েন করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির আঁচ পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইরানকে তেল বিক্রির যে বিশেষ ছাড় আগে দেওয়া হয়েছিল, তা আমেরিকা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভারতসহ একাধিক দেশ সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!