ইরান-মার্কিন সংঘাত চরমে: ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারি এবং পারমাণবিক যুদ্ধের শঙ্কা ও উত্তেজনা | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৭ এপ্রিল ২০২৬ :

ওয়াশিংটন ও তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম এবং ইরানের অনড় অবস্থানের ফলে বিশ্ব এক ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত কঠোর এবং প্রলয়ঙ্করী ভাষা ব্যবহার করে বলেছেন, “আজ রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।” তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানকে হয় আলোচনায় বসতে হবে, নয়তো এক ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হতে হবে।
হোয়াইট হাউজ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করলেও, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কথায় রহস্য দানা বাঁধছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী এমন কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারে যা তারা “এখনও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়নি।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ডেমোক্র্যাট শিবির এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ঘনিষ্ঠরা অভিযোগ তুলেছেন যে, ট্রাম্প পরোক্ষভাবে পারমাণবিক হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউজ এই অভিযোগকে “হাস্যকর” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে, যেখান দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি রপ্তানি হয়। অন্যথায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ব্রিজের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইতিমধেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের খারিগ দ্বীপ এবং বিভিন্ন রেলওয়ে ও ব্রিজে হামলা চালিয়েছে।
পাল্টা জবাবে ইরানও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত করে, তবে তারা মার্কিন মূল ভূখণ্ড এবং তার মিত্রদের অবকাঠামো তছনছ করে দেবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ইরানি দেশ রক্ষায় যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।
বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হচ্ছে। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, কিন্তু ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০ দফার শান্তি প্রস্তাবকে “যথেষ্ট নয়” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আজ রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) সময়সীমা পার হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্ববাসী গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!