নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৩১ মার্চ ২০২৬ :

‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালীকে অন্ধকারে রেখেই ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন হরমুজের অবরোধ খোলার চেয়ে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। সোমবারই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল ভাণ্ডার ধ্বংস করে দেবে আমেরিকা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই এই ‘ডিগবাজি’ আমেরিকার অস্বস্তিকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ঘনিষ্ঠমহলে স্বীকার করেছেন যে, বলপূর্বক হরমুজের ‘তালা’ খুলতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। প্রাথমিকভাবে মার্কিন প্রশাসন ভেবেছিল, ইরান যুদ্ধ চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং ‘আহত বাঘের’ মতো পালটা আঘাত হানছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে যে, সামরিক পথে হরমুজ মুক্ত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ গুটিয়ে নেওয়া। এক্ষেত্রে হরমুজ যদি আপাতত রুদ্ধ থাকে, তাহলেও ট্রাম্পের আপত্তি নেই। তবে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে হরমুজের অবরোধ ভাঙতে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। অথবা, আমেরিকা সরাসরি অংশ না নিয়ে ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলিকে হরমুজ মুক্ত করার আহ্বান জানাতে পারে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়, যা বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলি এই পথ ব্যবহার করে। এছাড়া, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি (LNG) রপ্তানিকারক কাতার পুরোপুরি হরমুজের ওপর নির্ভরশীল। এই কারণে একে ‘বিশ্বের জ্বালানির লাইফলাইন’ বলা হয়। ইরান বর্তমানে ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানকে ‘ছাড়পত্র’ দিয়ে বাকি দেশগুলির জন্য এই পথ বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে।