নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৬ মার্চ ২০২৬ :

নয়াদিল্লি: ভারতের সুগন্ধি বাসমতি চালের বিশ্বজোড়া খ্যাতি। ঘরোয়া অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিদেশের বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ—সর্বত্রই এর কদর অপরিসীম। তবে এবার পশ্চিম এশিয়ায় চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ পরিস্থিতির কালো ছায়া সরাসরি আছড়ে পড়েছে ভারতের এই প্রিমিয়াম চাল রফতানি শিল্পের ওপর। আন্তর্জাতিক রুটে অস্থিরতা, জাহাজ চলাচলে বিলম্ব এবং আর্থিক লেনদেন আটকে যাওয়ার ফলে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় বাসমতি রফতানি বাণিজ্য কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছে। হাজার কিলোমিটার দূরের এই সংঘাতের আঁচ সরাসরি এসে লেগেছে দেশের মিল মালিক, ব্যবসায়ী এবং কয়েক লক্ষ কৃষকের জীবনে।
ভারত প্রতি বছর ৬০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি বাসমতি চাল রফতানি করে। এর সিংহভাগই যায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে। রমজান ও ঈদের আগে সাধারণত রফতানির পরিমাণ বাড়ে। কিন্তু এবারের যুদ্ধ লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। কনটেইনারের চরম সংকট তৈরি হয়েছে, এবং যা পাওয়া যাচ্ছে, তার খরচ আকাশছোঁয়া। আগে যেখানে কনটেইনারপ্রতি খরচ ছিল ২,৫০০ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,০০০ থেকে ৯,০০০ ডলারে। বীমা কভারেজ কঠোর হওয়ায় এবং রুট বারবার পরিবর্তন করতে হওয়ায় রফতানিকারকদের ঝুঁকি ও খরচ বহুগুণ বেড়েছে।
বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ টন প্রক্রিয়াজাত বাসমতি চাল ভারতের বিভিন্ন বন্দর ও গোডাউনে আটকে রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে অর্থপ্রবাহে। ব্যবসায়ীদের মতে, ২ হাজার কোটি থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেন কার্যত স্থির হয়ে আছে। পেমেন্ট আটকে যাওয়ায় মিল মালিকদের ঋণের বোঝা বাড়ছে, কর্মীদের মজুরি দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকটের প্রভাব ধীরে ধীরে পৌঁছাচ্ছে কৃষকদের কাছেও। মিলগুলোর কেনাবেচা কমে যাওয়ায় ধানের দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা চাষিদের ভবিষ্যৎ বপন সিদ্ধান্তকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। সরকার কিছু পদক্ষেপের কথা ভাবলেও, চূড়ান্ত সমাধান নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ওপর।