নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ :

পাকিস্তানে বৈঠক সেরে ফেরার পথে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়, রুট বদলে ট্রেন-বাসে ফিরলেন ইরানি প্রতিনিধিরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। পাকিস্তান থেকে শান্তি বৈঠক সেরে দেশে ফেরার পথে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচিসহ পুরো প্রতিনিধি দলটিকে আকাশপথের ঝুঁকি এড়িয়ে ট্রেন, বাস এবং গাড়িতে করে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে তেহরানে ফিরতে হয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি, যিনি ওই সফরকারী দলের সদস্য ছিলেন, তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠক শেষে ফেরার সময় তাঁরা লেবাননের সংবাদমাধ্যম মারফত জানতে পারেন যে, তাঁদের বিমানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। এমনকি বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নামিয়ে ফেলার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করে ইরানি প্রতিনিধিরা। তাঁরা তেহরানগামী মূল বিমানে না ফিরে গোপনে অন্য একটি বিমানে চড়েন। সেই বিমানটিও মাঝ আকাশে হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করে দ্রুত মাশহাদ শহরে অবতরণ করে। সেখান থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশপথ সম্পূর্ণ ত্যাগ করে স্থলপথে বিভিন্ন যানবাহনে করে তাঁরা রাজধানী তেহরানে পৌঁছান। অধ্যাপক মারান্ডির কথায়, “আমরা আমেরিকাকে এক বিন্দুও বিশ্বাস করি না।”
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের মধ্যে যে শান্তি বৈঠক হয়েছিল, তা কার্যত কোনো দিশা দেখাতে পারেনি। আগামী বুধবার জেনিভা বা পাকিস্তানে আবারও বৈঠকের সম্ভাবনা থাকলেও, এই হামলার আশঙ্কার খবর দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়িয়ে দিল।