নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৩০ মার্চ ২০২৬ :

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের কালো মেঘ। তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। সোমবার এক চরম বিবৃতিতে ইরান সাফ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো (US Universities) এখন তাদের নিশানায়।
ডেডলাইন ও শর্ত:
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরান সময় দুপুর ১২টার মধ্যে মার্কিন প্রশাসনকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে হবে। এই বিবৃতিতে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানাতে হবে ওয়াশিংটনকে। যদি আমেরিকা এই দাবি না মানে, তবেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ক্যাম্পাসগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান।
আতঙ্কে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত:
ইরানের এই হুমকির ফলে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত নামী মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে কাতারের টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি এবং আমিরাতের নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি এখন হাই-অ্যালার্টে রয়েছে। ইরান ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসের সমস্ত ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক এবং অ-শিক্ষক কর্মীদের দ্রুত চত্বর খালি করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ক্যাম্পাস থেকে অন্তত ১ কিলোমিটার দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হামলার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে উত্তর-পূর্ব তেহরানের একটি গবেষণা ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জোরালো ড্রোন হামলা চালানো হয়। যদিও এই হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান এই হামলার পেছনে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে। এরই পাল্টা জবাব দিতে এবার সরাসরি মার্কিন শিক্ষা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।