নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৫ মার্চ ২০২৬ :

কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তার সরাসরি আঁচ এসে পড়েছে ভারতের সাধারণ মানুষের ড্রয়িং রুম থেকে হেঁশেল পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই এই সংকটকে ‘করোনাকালের চেয়েও মারাত্মক’ বলে সতর্ক করেছেন। আর সেই আশঙ্কাই এখন সত্যি হতে চলেছে দেশের অনুসারী প্লাস্টিক শিল্পের (Plastic Industry) ক্ষেত্রে। ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার এই ত্রিমুখী সংঘাতের জেরে অশোধিত তেল ও গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় তীব্র কাঁচামাল সংকটে ভুগছে এই শিল্প।
ইন্ডিয়ান প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (IPF)-এর দাবি, প্লাস্টিক পণ্য তৈরির প্রধান উপাদান হলো পলিমার, যা মূলত পেট্রোকেমিক্যালস থেকে আসে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশীয় বাজারে পলিমারের দাম গড়ে ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আইপিএফ-এর প্রেসিডেন্ট অমিত আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগে পলিমারের দাম মাসে একবার বা দু’বার পরিবর্তন হতো, কিন্তু এখন সপ্তাহে তিন-চারবার দাম বাড়ছে। ফলে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলোর পক্ষে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
ভারতের প্রায় ৭০ হাজার প্লাস্টিক প্রস্তুতকারক সংস্থার মধ্যে ৯০ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। পশ্চিমবঙ্গেই এমন প্রায় ৫০০০ সংস্থা রয়েছে, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের রুটি-রুজি নির্ভর করে। বালতি, মগ, পাইপ থেকে শুরু করে ওষুধ বা খাদ্যের প্যাকেট—সবই তৈরি করে এই সংস্থাগুলো। কাঁচামালের চড়া দরের কারণে উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০% বেড়ে গিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যে কার্টন মোড়ক তৈরিতে আগে ৬০ টাকা খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ৯০-৯৫ টাকা দাঁড়িয়েছে।
প্লাস্টিক শিল্প মহলের অভিযোগ, সরকারি টেন্ডার বা পুরোনো চুক্তির কারণে তারা চাইলেই পণ্যের দাম বাড়াতে পারছে না, ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এছাড়া অনেক কারখানায় রান্নার গ্যাসের (LPG) সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়াও ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্ডিয়ান প্লাস্টিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে:
১. আমদানি শুল্ক হ্রাস: যুদ্ধ চলাকালীন পলিমারের আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে কমানো হোক।
২. অ্যান্টি ডাম্পিং নীতি স্থগিত: চীন বা সিঙ্গাপুর থেকে সস্তায় কাঁচামাল আমদানির পথ প্রশস্ত করতে এই নীতি আপাতত শিথিল করা হোক।
৩. আর্থিক সহায়তা: সংস্থাগুলোর কার্যকরী মূলধনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হোক।
দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সাধারণ ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মহীনতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না বিশেষজ্ঞ মহল।