হরমুজ প্রণালী অবরোধ করল মার্কিন নৌবাহিনী: চরম সংকটে ইরান ও বিশ্ব জ্বালানি বাজার | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়ে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন হরমুজ প্রণালী। ইসলামাবাদে শান্তি-আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামুদ্রিক রুট অবরোধের যে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার নিরাপত্তা এখন খাদের কিনারে।
মার্কিন রণকৌশল ও শক্তিমত্তা:
সোমবার থেকে মার্কিন নৌবাহিনী অন্তত ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে মার্কিন বাহিনী ইরানি উপকূলের পরিবর্তে প্রণালীর দুই প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সন্দেহজনক যেকোনো জাহাজ থামিয়ে তল্লাশি চালানোর। সহযোগিতা না করলে মেরিন কমান্ডোরা আকাশপথে জাহাজে অবতরণ করার জন্য প্রস্তুত। এই অভিযানে বিমানবাহী রণতরী ও ডেস্ট্রয়ারের পাশাপাশি ড্রোন এবং স্যাটেলাইট নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ঝুঁকির মুখে আমেরিকা:
এই অবরোধ কার্যকর করা পেন্টাগনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক সংকীর্ণতা মার্কিন রণতরীগুলোকে ইরানি রেভলিউশনারি গার্ডের ড্রোন ও মাইনের লক্ষ্যবস্তু করে তুলতে পারে। তাছাড়া, আটক করা জাহাজগুলো পরিচালনার জন্য বিশাল জনবল ও রসদের প্রয়োজন, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন বাহিনীর ওপর চাপ বাড়াবে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। ট্রাম্পের দাবি, ইরান তেলকে বৈশ্বিক ‘ব্ল্যাকমেল’-এর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হুহু করে বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না এশিয়া বা ইউরোপের কোনো দেশই।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!