নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৪ মার্চ ২০২৬ :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উপক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। যুদ্ধের মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ৬৯ ডলারের তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
এই সংকটের মূলে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ হয়, যার সিংহভাগ ক্রেতা ভারত, চিন এবং জাপানের মতো এশীয় দেশগুলি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে অবরুদ্ধ এই জলপথ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের হাহাকার তৈরি করেছে। রাশিয়ার তেল দিয়ে এই ঘাটতি মেটানো অসম্ভব, কারণ ইরান যে পরিমাণ জোগান দিতে সক্ষম, রাশিয়া তার অর্ধেকও দিতে পারবে না।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও ঘনিয়ে এসেছে কালো মেঘ। ভারতের গ্যাস ও তেলের জোগানের বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেও, ভারতীয় জাহাজগুলিকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দেওয়ার বিষয়টি ইরান অস্বীকার করেছে। আসলে, এই অসম যুদ্ধে ইরান তাদের তুরুপের তাস হিসেবে হরমুজ প্রণালীকেই ব্যবহার করছে।
যদি তেলের দাম সত্যিই ২০০ ডলারে পৌঁছায়, তবে মূল্যবৃদ্ধির চাপে আমেরিকা ও ইউরোপের উন্নত অর্থনীতিও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। এমনকি আমেরিকা ও ইজরায়েলের পক্ষেও তখন যুদ্ধ চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। ইরান ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিরতির জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছে। এখন সমগ্র বিশ্ব যদি সক্রিয় হয়ে এই যুদ্ধ বন্ধ না করে, তবে সামনে এক অপূরণীয় অর্থনৈতিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।