নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৭ মার্চ ২০২৬ :

তেহরান: অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের আগুন ছাপিয়ে এবার যুদ্ধের দামামা মধ্যপ্রাচ্যে। দুই মাস আগেই যে ইরানের যুবসমাজ আয়াতোল্লা শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল, মার্কিন আক্রমণের হুমকির মুখে সেই ছবিটা এখন আমূল বদলে গেছে। বর্তমানে নিজেদের দেশ এবং শাসন ব্যবস্থা রক্ষায় প্রাণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না সাধারণ মানুষ। ইরানের সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ সূত্রে খবর, আমেরিকার সম্ভাব্য স্থল অভিযান মোকাবিলায় অন্তত ১০ লক্ষ সেনার এক বিশাল ফৌজ তৈরি করছে ইরান।
খবরে বলা হয়েছে, ইরান রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), বাসিজ বাহিনী এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কেন্দ্রে উপচে পড়ছে সাধারণ মানুষের ভিড়। কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে ইতিমধ্যেই নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যদি ইরানে সেনা পাঠায়, তবে এই বিশাল বাহিনী তাদের জন্য ‘নারকীয় অভিজ্ঞতা’ উপহার দেবে।
কিছুদিন আগেই রয়টার্সের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করতে বদ্ধপরিকর এবং মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। যদিও পেন্টাগনের এক পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট সবরকম দিক খতিয়ে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের ইরাক অভিযান আর বর্তমানের ইরান অভিযান এক নয়। ইরান আয়তনে বিশাল এবং তাদের সামরিক পরিকাঠামো অত্যন্ত উন্নত। এছাড়া লেবাননের হেজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হাউথিদের মতো শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়াবে। যে আয়াতোল্লাকে সরাতে ইরানিরা পথে নেমেছিলেন, আজ তাঁর নেতৃত্বেই ১০ লক্ষ সেনা আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে মার্কিন সেনার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। ওয়াশিংটনের জন্য এই স্থল অভিযান যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান।