নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৮ এপ্রিল ২০২৬ :

ডলারের সাম্রাজ্যে হানা: ইরানের তেলের দাম মেটাতে ভারতের ‘টাকা-নীতি’র জয়জয়কার
নয়াদিল্লি: বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণে আরও একবার নিজের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিল ভারত। মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইরানের কাছ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের দাম এবার সরাসরি ভারতীয় টাকায় মেটানোর পথে হাঁটছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এড়িয়ে ভারতের এই ‘বুদ্ধিদীপ্ত’ কৌশলকে কুর্নিশ জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল।
কৌশলগত সুবিধা:
দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমী দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে ডলারে লেনদেন করা ভারতের জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সমস্যা সমাধানে ভারত এখন বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে টাকাকে বেছে নিয়েছে। এতে শুধু যে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত থাকবে তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতীয় টাকার গ্রহণযোগ্যতাও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চক্র:
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ‘ট্রেড সাইকেল’। ইরান তেলের বিনিময়ে যে টাকা পাবে, তা ভারত থেকেই পণ্য আমদানিতে ব্যবহার করবে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ইরান এই টাকা দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ বাসমতী চাল, চা, ওষুধ, টেক্সটাইল এবং প্রযুক্তিগত পরিষেবা কিনবে। ফলে একদিকে ভারত যেমন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে ভারতের রপ্তানি বাজারও এক ধাক্কায় অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব:
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের অস্থিতিশীলতার মুখে ভারতের এই পদক্ষেপ একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়। অতীতে আংশিকভাবে এই ব্যবস্থা চালু থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এর পূর্ণাঙ্গ রূপায়ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
বিশ্বের নজর:
ভারতের এই মডেল এখন বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দেশই এখন নিজস্ব মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের কথা ভাবতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি সফল হলে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান যে আরও সুদৃঢ় হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আগামী দিনে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন উচ্চতায় পৌঁছায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।