ড্রাগনের হৃদয়ে কাঁপন ধরাতে আসছে ‘অরিদমন’: ভারতের জলসীমায় যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

ড্রাগনের হৃদয়ে কাঁপন ধরাতে আসছে ‘অরিদমন’: ভারতের জলসীমায় যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন

ভারত মহাসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান দাপট ও নজরদারির যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত ভারত। আগামী দুই মাসের মধ্যেই জলে ভাসতে চলেছে ভারতের তৃতীয় শক্তিশালী পারমাণবিক সাবমেরিন ‘এস-৪’ বা ‘অরিদমন’। বিশাখাপত্তনমের জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে নির্মিত এবং এলঅ্যান্ডটি (L&T)-র কারিগরি ছোঁয়ায় তৈরি এই ডুবোজাহাজটি ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’-কে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বর্তমানে ভারতের অস্ত্রাগারে ‘অরিহন্ত’ ও ‘অরিঘাত’ নামক দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন থাকলেও, অরিদমন হবে আরও বেশি ঘাতক। এটি মূলত ‘শিপ সাবমার্সিবল ব্যালেস্টিক নিউক্লিয়ার’ বা এসএসবিএন (SSBN) শ্রেণির। এই ডুবোজাহাজটি কেবল পরমাণু শক্তিতে চালিতই নয়, এটি পরমাণু হামলা চালাতেও সমান সক্ষম। শত্রুপক্ষ যদি ভারতের স্থলভাগের পারমাণবিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেয়, তবে সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে থাকা এই অরিদমনের মাধ্যমেই ভারত পাল্টা আঘাত হানতে পারবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অরিদমনে সজ্জিত থাকবে ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার কে-১৫ এবং ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার কে-৪ ব্যালিস্টিক মিসাইল। পারমাণবিক সাবমেরিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর নিঃশব্দ অবস্থান। সমুদ্রের গভীরে এই সাবমেরিন কখন কোথায় অবস্থান করছে, তা চিহ্নিত করা প্রতিপক্ষের জন্য প্রায় অসম্ভব। ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই ভারত জলপথে এই পরমাণু শক্তি অর্জনের পথে হাঁটে, যার সফল রূপান্তর দেখা গিয়েছিল ২০১৬-তে অরিহন্তের আগমনে। এবার অরিদমনের হাত ধরে ভারতের নৌশক্তি যে চিনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেবে, তা নিশ্চিত।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!