অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় তাপপ্রবাহে মৃত ৪০ জনের বেশি, বিপর্যস্ত জনজীবন ও প্রাণীকুল |The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৪ মে ২০২৬ :

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা, দু’দিনে মৃত ৪০-এর অধিক
অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিগত ৪৮ ঘণ্টায় এই দুই রাজ্যে প্রবল গরমের কারণে ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। প্রাপ্ত প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র তেলেঙ্গানাতেই হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়াতেও ১০ জনের মৃত্যুর খবর সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এই চরম আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মূলত প্রবীণ নাগরিক, দিনমজুর, পথবাসী এবং যাঁরা দীর্ঘক্ষণ সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে কাজ করতে বাধ্য হন।
রাজ্য দুটির একাধিক স্থানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। এমনকি কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় তাপমাত্রার পারদ ৪৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে গিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। দুপুরের পর থেকে রাস্তাঘাট একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলিতে হিটস্ট্রোক, জলশূন্যতা এবং চরম ক্লান্তির উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের ভিড় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতর ও জেলা প্রশাসনকে এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
এই প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু মানবসমাজেই সীমাবদ্ধ নেই, বন্যপ্রাণী ও গবাদি পশুর উপরেও এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রচণ্ড গরমে শয়ে শয়ে বাদুড় গাছ থেকে লুটিয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি, বহু গবাদি পশুরও মৃত্যু ঘটেছে। বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা এবং প্রবল গরমের কারণে বিকল হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে বেশ কিছু জায়গায় ট্রান্সফরমারের উপর ক্রমাগত জল ঢেলে ঠান্ডা রাখার মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে তেলেঙ্গানা সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হিটস্ট্রোকে মৃতদের পরিবারবর্গের জন্য মাথাপিছু ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ‘হিটওয়েভ’ এবং ‘সানস্ট্রোক’-কে ‘স্টেট স্পেসিফিক ডিজাস্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলেই বর্তমানে বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে সরাসরি এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!