নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৮ এপ্রিল ২০২৬ :

নতুন কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ‘ফর্ম ১২১’
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের আয়কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজতর করতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে আয়কর আইনে একগুচ্ছ সংস্কার আনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো নতুন ‘ফর্ম ১২১’-এর প্রবর্তন। এতদিন ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টিডিএস (TDS) এড়াতে করদাতারা ফর্ম ১৫জি (15G) এবং ফর্ম ১৫এইচ (15H)-এর সাহায্য নিতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই দুই পুরনো ফর্মের পরিবর্তে এখন থেকে একটিই ফর্ম— অর্থাৎ ‘ফর্ম ১২১’ ব্যবহার করতে হবে।
কেন এই বদল?
আগে বয়সভেদে (সাধারণ নাগরিক ও প্রবীণ নাগরিক) আলাদা আলাদা ফর্ম জমা দিতে হতো, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়শই বিভ্রান্তি তৈরি হতো। সরকার এই প্রক্রিয়াকে সরলীকরণ করতেই ‘এক দেশ, এক ফর্ম’ নীতি অনুসরণ করে ফর্ম ১২১ চালু করেছে। এর ফলে ডিজিটাল সাবমিশন যেমন দ্রুত হবে, তেমনই ভুল ফর্ম জমা দেওয়ার প্রবণতাও কমবে।
ফর্ম ১২১ কী এবং এর গুরুত্ব:
ফর্ম ১২১ হলো একটি স্ব-ঘোষণাপত্র। যদি কোনো করদাতার বার্ষিক মোট আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকে, তবে তিনি এই ফর্মটি জমা দিয়ে ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করতে পারেন যাতে তাঁর অর্জিত সুদের (ফিক্সড ডিপোজিট বা রিকরিং ডিপোজিট) ওপর কোনো টিডিএস বা কর কাটা না হয়।
জমা না দিলে কী ক্ষতি?
যদি আপনার আয় করযোগ্য সীমার নিচে হয় অথচ আপনি সময়মতো এই ফর্ম জমা না দেন, তবে ব্যাঙ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার সুদের ওপর টিডিএস কেটে নেবে। একবার টাকা কেটে নেওয়া হলে তা ফেরত পেতে আপনাকে আয়কর রিটার্ন (ITR) ফাইল করতে হবে, যা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি।
কারা এবং কখন জমা দেবেন?
যাঁদের বার্ষিক আয় করযোগ্য সীমার কম এবং যাঁদের সেভিংস বা ফিক্সড ডিপোজিট থেকে সুদের আয় রয়েছে, তাঁরাই এই ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। আয়কর বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি আর্থিক বছরের শুরুতেই (এপ্রিল মাসে) এই ফর্ম জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তবে ফর্মে ভুল তথ্য দিলে জরিমানা বা আইনি জটিলতার মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই সঠিক তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
সামগ্রিকভাবে, ফর্ম ১২১ চালু হওয়ায় করদাতাদের হয়রানি কমবে এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লক্ষ্যে আয়কর বিভাগ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।