নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৮ মার্চ ২০২৬ :

জলপাইগুড়ি, ২৮ মার্চ: প্রকাশ্য দিবালোকে ঘরের পিছন থেকে এক বৃদ্ধার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার বাহাদুর এলাকার সাতখামার সংলগ্ন চাইচান্দি কামাতে। মৃত মহিলার নাম সামিজা খাতুন (৭৩)। অত্যন্ত নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর চাউর হতেই গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০:৪৫ নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির পিছনে সামিজা খাতুনের ক্ষতবিক্ষত দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। লক্ষ্য করা যায়, বৃদ্ধার শরীর থেকে মাথাটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কোনো অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে ফেলা হয়েছে। তবে নিখোঁজ মুণ্ডটির হদিস এখনও পাওয়া যায়নি, যার সন্ধানে এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
পরিবারের বয়ান অনুযায়ী, গতরাত ১১টা নাগাদ সামিজা খাতুনকে শেষবার জীবিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল যখন তিনি ঘুমানোর জন্য নিজের ঘরে যান। সকাল হওয়ার পর থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে বাড়ির পিছন থেকে তার এই বীভৎস দেহ উদ্ধার হয়। ঘাতকরা কেন এবং কী কারণে এই বৃদ্ধাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যেই একটি পুলিশি কুকুর স্কোয়াড ও ফরেনসিক স্টেট ল্যাবরেটরি (FSL) টিমকে তলব করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনো ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে কি না বা ব্যবহৃত অস্ত্রটি আশেপাশে কোথাও ফেলে যাওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আমরা নিখোঁজ মুণ্ডটির সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছি।” তদন্তের স্বার্থে পরিবারের সদস্যদের ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত কিনারা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।