নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

অনিয়মিত জীবনযাপনে বাড়ছে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি: সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই ৯টি সোনার নিয়ম
নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্তমান সময়ে আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরে বাসা বাঁধছে একাধিক জটিল রোগ। যার মধ্যে সবথেকে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কিডনি বা বৃক্কের সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগের সবথেকে ভয়ের দিক হলো এর উপসর্গগুলো একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে। তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়া এবং নিয়ম মেনে চলা ছাড়া কিডনি বাঁচানোর দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।
কিডনিকে আজীবন সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে বিশেষজ্ঞরা মূলত ৯টি বিষয়ের ওপর জোর দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন:
১. পর্যাপ্ত জল পান: শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে জলের কোনো বিকল্প নেই। তবে অতিরিক্ত নয়, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করতে হবে।
২. লবণের পরিমাপে লাগাম: খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি কিডনির সূক্ষ্ম ফিল্টারগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৩. ব্যথানাশক ওষুধ থেকে সাবধান: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন পেইনকিলার খাওয়ার অভ্যাস কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ সরাসরি কিডনির ওপর প্রভাব ফেলে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রক্তে সুগারের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
৬. নেশা বর্জন: ধূমপান ও মদ্যপান কিডনিতে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৭. প্রোটিন সাপ্লিমেন্টে সতর্কতা: জিম বা বডি বিল্ডিংয়ের জন্য অতিরিক্ত প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
৮. কায়িক শ্রম ও ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম শরীরকে সচল রাখে।
৯. পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরের প্রতিটি কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে বা যারা দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের বছরে অন্তত একবার ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) এবং ইউরিন টেস্ট করানো উচিত। মনে রাখবেন, সামান্য সচেতনতাই পারে আপনাকে একটি সুস্থ জীবন উপহার দিতে।